নকলায় কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা মোকাবেলায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

নকলায় কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা মোকাবেলায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯)-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা মোকাবেলায় শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ১৬ নভেম্বর সোমবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও আয়োজনে জনসচেতনতামূলক এ ক্যাম্পেইন ও মাস্ক বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন হতে শুরু হয়ে নকলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ঘুরে ঘুরে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯)-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এসময় যাদেরকে মাস্ক বিহীত পাওয়া যায় তাদের হাতে মাস্ক তুলে দেওয়া হয়। জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গিয়ে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শেষে করা হয়।

ক্যাম্পেইন ও মাস্ক বিতরনের সময় অন্যানদের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. বোরহান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা কৃষি কৃসি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিবসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও স্থানীয় সাংবাদিগন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ্ বলেন, অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের প্রকোপে থেমে গেছে সারাবিশ্ব। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরাকরের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃতে আমরা প্রথম ঢেউয়ের প্রকোপ মোকাবেলা করে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষতি মোকাবেলার জন্য আমাদের সকলেকে অধিক সচেতন হতে হবে। নতুবা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের থেমে যেতে হবে। তাই সরকার নির্দেশিত সকল বিধি-নিষেধ মেনে চরা জরুরি বলে তিনি জানান।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ জানান, করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে, পরে অন্যদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যেন কেউ বাহিরে গেলে মাস্ক পরিধান করেন। তিনি আরও জানান, কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা প্রতিরোধে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ভাবে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। অতএব সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। সরকারের নির্দেশা অমান্য করা হলে যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখতে হলে মাস্ক পরিধান করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। যেহেতু করোনা ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক বা টিকা সারাবিশ্বের কোথাও আবিষ্কার হয়নি, অতএব করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে হলে সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে সচেতনতা অবলম্বন করাই একমাত্র উপায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সকলকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা হয়েছে। এরপরেও যারা মাস্ক পরিধান করা ছাড়া অবাধে চলাচল করবেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও ইউএনও মহোদয় জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!