কৃষকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা সংসদে তুলে ধরলেন হুইপ আতিক

কৃষকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা সংসদে তুলে ধরলেন হুইপ আতিক

স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক সংসদের মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ সংসদ অধিবেশনে কৃষকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা তুলে ধরলেন। তা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো-
মাননীয় স্পীকার,
আপনাকে ধন্যবাদ। বক্তব্যের শুরুতেই আমি বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
মাননীয় স্পীকার,
আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মহান জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
মাননীয় স্পীকার,
আমি কৃষকের সন্তান, আজন্ম ধুলা-মাটি মেখে বড় হয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মহান জাতীয় সংসদে শেরপুর-১ এর মাটি ও মানুষের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমার অন্তরে সবসময় কৃষি ও কৃষকের কথা বিরাজ করে। তাই আমি মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে জাতির পিতার কৃষি ও কৃষকের প্রতি অবদানের বিষয়ে কিছু কথা বলছি।
মাননীয় স্পীকার,
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলার গর্বিত নাগরিক আমরা। ত্রিশ লাখ জীবনের বিনিময়ে প্রাপ্ত এ বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু সোনালি ফসলে ভরপুর দেখতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৈশোর-তরুণ বয়স থেকে বাংলার কৃষকের দৈন্য স্বচক্ষে দেখেছেন, যা বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করে। ফিলিস্তিনী মহান নেতা ইয়াসির আরাফাত বলেছিলেন,
‘‘আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ঠ”। তাই আমরা সব সময় দেখেছি বঙ্গবন্ধুর সারা রাজনৈতিক জীবনে কৃষক ও কৃষির উন্নয়ন ও কল্যাণ ভাবনা নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। সে কারণেই স্বাধীনতার পরতিনি ডাক দিয়েছেন সবুজ বিপ্লবের। স্বপ্নের সোনার বাংলায় তিনি দেখতে চেয়েছিলেন দেশের কৃষিও কৃষকের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলা কৃষক-মজুর ও দুখী মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে”।
তাইতো নয় মাসব্যাপী একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যে মবাংলাদেশ স্বাধীনহওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৬মার্চ বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমাদের চাষী হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।’
মাননীয় স্পীকার,
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকেই নিলেন কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তাদের সব বকেয়া খাজনা, ব্যাংকের বকেয়া ঋণ মওকুফ করে দিলেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনাও মওকুফ করার ঘোষণা দিলেন। জমির সিলিং ১০০ বিঘা পর্যন্ত নির্ধারণ করলেন। উদ্বৃত্ত জমি ও খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্টনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ১০ লক্ষ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের অব্যাহতি দিলেন। বিএডিসি’র মাধ্যমে ভর্তুকী দিয়ে সার ও সেচ যন্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষির অগ্রযাত্রায় একটি স্বর্ণালী দিন। ঐদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর আগমন ছিল একটি চিরস্মরণীয় ঘটনা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কৃষিবিপ্লব বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রমী চাষীদের সঙ্গে সঙ্গে মেধাবী কৃষিবিদদেরও প্রয়োজন হবে। মেধাবী ছাত্রদের কৃষিশিক্ষায় আকর্ষণ করার জন্য কৃষিবিদদের তিনি প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছিলেন।
মাননীয় স্পীকার,
সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৩ সালে ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা শুধু কৃষিউন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছিল। এতে তখন থেকেই কৃষির প্রতি, কৃষি সম্প্রসারণেরপ্রতি, কৃষি উন্নয়নের প্রতি বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেবঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, উদ্যানউন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ইক্ষু গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন। কৃষিশিক্ষা, মানসস্মত বীজ উৎপাদন এবং বিতরণ, সুষ্ঠু সার ও সেচব্যবস্থাপনা, কৃষিতে ভর্তুকি, বালাই ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনা, খামারভিত্তিক ফসল ব্যবস্থাপনা, সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ, মিল্কভিটা পুনর্গঠন, সার, সেচ, বীজ বিষয়ক কার্যক্রম এসবের ওপরসর্বাত্মক জোর দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।
মাননীয় স্পীকার,
বঙ্গবন্ধু একটি নতুন মানচিত্র চেয়েছিলেন, নতুন জাতিসত্তা চেয়েছিলেন, একটি স্বনির্ভরসুখীমানুষের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে ব্যাপক ভর্তুকী, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দর্শন-চিন্তা, মানবিক ও উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছ। এর ফলে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, কৃষিতে স্বনির্ভরতা এসেছে। এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌছাবে ইনশাল্লাহ।
মাননীয় স্পীকার,
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্বারক বক্তব্য প্রদানের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
মাননীয় স্পীকার আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু;
বাংলাদেশ চীরজীবী হউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.