ঝিনাইগাতীর ফাখরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি, নিয়োগ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইগাতীর ফাখরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি, নিয়োগ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ফাখরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো: আমিরুজ্জামান লেবুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে কোন নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে জামাই শশুর মিলে ১০জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রায় কোটি টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়াও বিদ্যালয়ের কাঠ বাগান বিক্রিসহ অন্যান্য তহবিলের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করে এক বছর পরে প্রভাব খাটিয়ে কোন নিয়োগ না নিয়ে অবৈধভাবে ১১ বছর বেতন ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার ফাখরাবাদ একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ও ঝিনাইগাতী উটজেলা আওয়ামীরীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আমিরুজ্জামান লেবু ২০০৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গ্রহণ করে ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু পদত্যাগ করলেও বিদ্যালয়ের হিসাব ও কাগজ পত্র বুঝিয়ে দিয়ে যাননি জনাব আমিরুজ্জামান লেবু। পরে এ বিষয়ে আদালতে মামলা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। এতে জনাব আমিরুজ্জামান লেবুর ওপর ওই বিদ্যালয়ে যাওয়ার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করে। পরে সরকারী দলের প্রভাব খাটিয়ে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ প্রয়োগ করে কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহারের এ্যফিডেভিটে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে। একই সাথে তার দায়িত্ব থেকেও সরে যেতে বাধ্য করে। পদত্যাগের এক বছর পরে বিধি মোতাবেক পূনরায় নিয়োগ না নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা নানা অনিয়মতান্ত্রিক কাজকে বৈধ করার জন্য তার জেঠা শ্বশুর ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমানকে বারবার সভাপতি নিয়োগ করে থাকেন। এ জন্য এ স্কুলকে অনেকেই জামাই শ্বশুরের স্কুল হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

জনাব আমিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সরকার ২০০৫ সালের পর থেকে এনটিআরসিএ থেকে নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের নির্দেশনা জারী করেন। কিন্তু এ নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে বেগ ডেইটে অন্তত ১০ জন নিবন্ধন বিহীনদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামাই শ্বশুর মিলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় ২০০৫ সালের পরে ২০১১ সালে সিরাজুল ইসলাম, ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীর আলম এবং ২০০৫ সালে রতন চন্দ্র দে পদত্যাগ করে অন্যত্র চাকুরী গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে এসএম আব্দুল বারেক মারা মারাযান। এসব শিক্ষককেও ২০০৫ সালের আগে নিয়োগ দেখানো হয়। শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয় আশরাফুল আলমকে, কৃষি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় হাসানুজ্জামানকে। এদের ২০০৫ সালে নিয়োগ দেখানো হলেও এমপিও ভূক্তি জন্য আবেদন করা হয়েছে একমাস আগে। সহকারী প্রধান শিক্ষক সালমা আকতার, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও রবিন চন্দ্র বর্মনসহ ৫জনকে ২০০৫ সালের ৪মার্চ নিয়োগ দিলেও তাদের যোগদান দেখানো হয়েছে নিয়োগের দুই দিন আগে ২মার্চ-২০০৫ তারিখে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষককে নিয়োগ না দিয়ে জুনিয়র শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের দুটি কাঠ বাগানের অন্তত ৫লক্ষাধিক টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও তিনি বিদ্যালয়ের নানা আয় সম্পর্কে কাউকে কখনই হিসাবা তিনি দিতেননা। তার নিজের ইচ্ছে মতো তিনি স্কুলের আয়ের টাকা খরচ করতেন। বিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্র না থাকলেও ভূয়া তথ্য দিয়ে তিনি একজন হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
জনাব লেবু স্কুলের কাগজ পত্র সব তার বাসায় রাখতেন। অথচ অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি স্কুল থেকে কাগজ হারিয়েছে বলে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছেন।

তার নানা দূর্ণীতির প্রতিকার ও বিচার দাবী করে সম্প্রতি ঝিনাইগাতীতে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
এদিকে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দূদকে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত করেন শেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোকছেদুর রহমান। তিনি জানান কাগজ পত্র হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে জনাব লেবু সাহেব তদন্ত কালে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। এতে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে ওই স্কুলের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিদ্যালয়ে কোন নিয়োগ হয়েছে বলে আমার জানানেই, কিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে আমরা কেউ জানিনা। স্কুল থেকে কোন কাগজ পত্র হারায়নি। প্রধান শিক্ষক আমিরুজ্জামানের পদত্যাগ পত্র রেজুলেশনের মাধ্যমে পদত্যাগ গৃহীত হয়। এবং সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে কিভাবে তিনি এসেছেন তা আমাদের জানানেই।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের শিক্ষক (ধর্মীয়) নুরুল আমীন জানান, শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিন তার মনমতো। বিল হওয়ার আগে আমরা কাউকে দেখিনাই। বিল হওয়ার পরে শিক্ষকদের আমরা দেখতাম। ওনি কখনই স্কুলের কাগজপত্র স্কুলে আনেন নাই। ওনি তার বাড়ীতেই কাগজ পত্র রেখেছেন। ইদানিং বলছেন কাগজপত্র হারিয়েছেন। এটা সঠিক না। তিনি পদত্যাগ করে ওপর মহলের চাপে আবার কিভাবে বহাল হয়েছিলেন আমরা জানিনা। সভাপতি বলেছে আপনারা চাকুরী করেন।

কমিটির সদস্য সালেহ আহাম্মেদ জানান, ২০০৫ সালে বেগডেট দেখিয়ে নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়েছে। একেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা করে নিয়েছে। ২০০৫ সালে নিয়োগ দেখানো হলেও তারা যোগদান করেছেন ২০১২ থেকে ১৮ সালে। হিন্দু ছাত্র না থাকলেও অবৈধভাবে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সময় আমরা সিনিয়র শিক্ষককে নিয়োগের জন্য বললেও নিয়ম-নীতি ভেঙ্গে জুনিয়র শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা অবৈধ বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!