হারিয়ে যেতে বসেছে রহস্যময় শিমুল গাছ

হারিয়ে যেতে বসেছে রহস্যময় শিমুল গাছ

নকলা শেরপুর সংবাদদাতা:শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন চরঅষ্টধর ইউনিয়নের রহস্যময় শিমুল গাছ। একটি শিমুল গাছ, যার জন্মলগ্ন কেও জানেনা, প্রায় ৫০ শতাংশ জমির উপর বিস্তৃত হয়ে আছে এর ডালপালা, চারপাশে গাছের ডালপালা মাটি থেকে মাত্র ৭ ফুট উপরে, গাছের একটি ডালে নাড়া দিলে সমস্তগাছের পাতা ঝন ঝন শব্দ শুরু হয়।
গাছটি যার জমিতে আছে তিনি তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু কেউ বলতে পারেনা এর জন্মলগ্নের সঠিক ইতিহাস।

যে গাছের বেশ কয়েকটা শিকড় গাছের চারপাশ মিলিয়ে তিনটা ঘর সৃষ্টি করেছে, এই ঘরের ভিতর প্রবেশ করলে যেন মনে হয় দালান ঘরে আছি, এই গাছের সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তাদের অনেকে বলেন, আমাদের দাদার আমলে শুনেছিলাম, বর্তমানে গাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে পারেনা।
অনেকদিন আগে গাছটি বিক্রি করা হয়েছিলো, লোকেরা গাছের একটি ডাল কাটতেই নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসতে শুরু করে। তারপর থেকে গাছের মালিক আর গাছ বিক্রয় করেন নি,কোন ক্রেতা সাধারনও কিনতে আসে না।

শোনা গেছে গরীব দুঃখির বিয়ের সময় নাকি বিবাহের কথা বললে, কাশার থালা,বাসন, ঘটি-বাটি ইত্যাদি কিছুক্ষণ পর গাছের নিচে পাওয়া যেতো। আবার কাজ শেষে সমস্ত জিনিস ফেরত দিতে হতো, যদি কেউ লোভ করে দুই একটা জিনিস রেখে দিতো তবে অদৃশ্য ভাবে ভয় ভীতি দেখানো হতো। তাই মানুষের লোভের কারনে এ জিনিস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। জীবনের চলার পথে বিপদে আপদে এই গাছের নিচে মান্নত করলেও নাকি উপকার পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উৎসবে এই গাছটিকে কেন্দ্র করে মেলা বসে,পহেলা বৈশাখে হাজারো মানুষের শুভাগমনে এই বেড় শিমুল গাছের আশেপাশে হয়ে উঠে জন বহুল এলাকা।

অনেক দূর দুরান্ত থেকে লোকজন আসে এই গাছটিকে দেখতে, ছুটির দিনে এই বেড় শিমুল গাছটিকে দেখতে আসে অনেকেই, সপ্তাহে প্রতিদিন না হলেও ছুটির দিনে এই গাছটির ছায়ার নিচে বসে সারাদিন ও কাটিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। শুধু তাই নয় চারিদিকে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় ধীরে ধীরে পিকনিক স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে।এই বেড় শিমুল গাছের নিচে চলচিত্রের শুটিং ও হয়েছিলো, অমিত হাসান, আলিরাজ, আনোয়ারা, জয়, জাবেদ সহ আরও অনেক চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনেত্রী এখানে শুটিং করার জন্য এসেছেন।

এখন গাছটির ডালপালা ভেঙ্গে পরে যাচ্ছে, আর আগের মত সেই দর্শনার্থীদের ও দেখা যাচ্ছে না, পরিবেশ টা যেনো দিন দিন মরে যাচ্ছে, স্থানীয় লোকজন সহ দর্শনার্থীরা এটি সংরক্ষণের জন্য দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!