গারো পাহাড়ে শতবর্ষী বটগাছে প্রায় শতাধিক মৌচাক

গারো পাহাড়ে শতবর্ষী বটগাছে প্রায় শতাধিক মৌচাক

বুলবুল আহম্মেদ শেরপুর :ভারত সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশকেন্দ্রের শতবর্ষী এক বটগাছে মৌমাছির দল ৭২টি চাক বেঁধেছে। একসঙ্গে এতগুলো মৌচাক দেখার জন্য এখন প্রতিদিনই গজনী অবকাশকেন্দ্রে ভিড় করছে উৎসুক এলাকাবাসী ও ভ্রমণপিপাসুরা।

জানা গেছে, শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলার গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি শত বর্ষী বটগাছ। গাছটির গোড়া থেকে শুরু করে মগডাল পর্যন্ত চাক বেঁধে নির্বিঘ্নে বাস করছে মৌমাছির দল। মৌমাছির গুঞ্জনে পুরো এলাকা মুখরিত। দর্শনার্থীরা গজনী অবকাশে বেড়াতে এসে ওই বটগাছের কাছে কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াচ্ছেন।

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার দর্শনার্থী আহসান হাবীব বলেন, ‘অবকাশে বেড়াতে এসে দেখলাম একটি বটগাছে ৭২-৭৩টি মৌচাক। একটি গাছে এতগুলো চাক হতে পারে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। এই প্রথম দেখলাম।’

গজনী অবকাশকেন্দ্রের কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম বলেন, মৌমাছিরা নির্বিঘ্নে বসবাস করছে। এটি দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

মৌচাষি আব্দুল হালিম বলেন, অবকাশকেন্দ্রের বটগাছে মৌচাক করা মৌমাছিগুলো ডাচ জাতের বন মৌমাছি। এরা সংঘবদ্ধভাবে এক জায়গায় থাকতে ভালোবাসে। এছাড়া গারো পাহাড়সংলগ্ন বনে এখন প্রচুর ফুল রয়েছে। এসব ফুল থেকে মধু আহরণের সহজ উৎস হওয়ায় মৌমাছিগুলো প্রাচীন এ বটগাছটিতে বাসা বেঁধেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, একটি গাছে এতগুলো মৌচাক সচরাচর দেখা যায় না। বটগাছটিতে ৭০ থেকে ৭৫টি মৌচাক রয়েছে। এসব মৌচাক থেকে কেউ যেন মধু আহরণ এবং মৌমাছিদের বিরক্ত না করে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব মৌচাক ভ্রমণপিপাসুদের কাছে গজনী অবকাশকেন্দ্রের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!