শীতার্ত দরিদ্র বন্যার্ত অসহায়ের কল্যাণে কাজ করছে শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা

শীতার্ত দরিদ্র বন্যার্ত অসহায়ের কল্যাণে কাজ করছে শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ২০১৮ সালের ২৬ মার্চে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি দরিদ্র, অসহায়, বন্যার্ত ও শীতার্তদের কল্যাণে নিরলস কাজ করে আসছে। বিশেষ করে করোনা কালীন সময় কর্মহীন অসহায়দের পাশে সহায়তার মনোভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে সকলের নজর কেড়েছে এ সংগঠনটি।

এর অংশ হিসেবে চলতি শীতের শুরু থেকেই প্রতি শুক্রবার ও শনিবার জেলার নকলা উপজেলার নির্ধারিত এলাকা ভিত্তিক এপর্যন্ত ৫শতাধিক এতিম ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ও শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এবিতরণ কর্মসূচি চলবে চলতি পুরো শীত মৌসুম ব্যাপী। এ শীতে কমপক্ষে ৩ হাজার কম্বল বিতরণ করা হবে বলে জানান শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লুৎফর রহমান লিখন (এম.এ)। তিনি বলেন, বাংলা-ভারত সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের নিম্নআয়ের দরিদ্র জনগন ঠাণ্ডা বাতাসের দাপটে এরই মধ্যে কাবু হয়ে পড়েছেন। ঠাণ্ডা বাতাস আর কুয়াশায় নাকাল যেন এ জেলার জনজীবন। এমতাবস্থায় শীতার্ত অসহায় ও দুস্থ মানুষের উষ্ণতা দিতে দায়বদ্ধতার স্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এ সংগঠনের সদস্যরা।

শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার ফেইসবুক প্রোফাইলে পোষ্টের মাধ্যমে জানা যায়, গত ঈদ-উল-আযহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে ৫ শতাধিক এতিম ও বন্যার্ত দরিদ্র পরিবারের মাঝে নতুন পোশাক, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর সংক্রমণ রোধে সাধারন জনগনের মাঝে মাস্ক, পিপিডি, সেনিটাইজারসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন তারা। এসব বিতরণের পাশাপাশি জেলা জুড়ে প্রায় ৫হাজার গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হয়, যদিও তাদের লক্ষ ছিলো জেলা ব্যাপী ১০ হাজার গাছের চারা রোপন করার। কিন্তু পারিপার্শিকতার কারনে তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লুৎফর রহমান লিখন (এম.এ) এতিম শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী জন্ম দিবস (পহেলা ডিসেম্বর) পালন করেছেন। এ উপলক্ষে ৫ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে উপজেলার কয়েকটি এতিম খানার শিশুদের জন্য উন্নত মানের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করাসহ এতিম শিশু শিক্ষার্থী ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করে সকলের নজর কাড়ে।

লুৎফর রহমান লিখন (এম.এ) বলেন- এতিম, অসহায়, বন্যার্ত ও শীতার্ত দরিদ্রদের মুখে হাসি ফুটাতে পারলে আমার বুকটা আনন্দে ভরে যায়। অসহায়দের মুখে হাসি ফুটানোই আমার সংগঠনের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্য। সংগঠনের সাথে জড়িত অনেক স্বেচ্ছাসেবক জানান, ঈদ উপলক্ষে এতিম শিশু ও বন্যার্ত দরিদ্রদের মাঝে নতুন পোশাক, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী কেনার ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ টাকা সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুৎফর রহমান লিখনের চাকরির বেতনে কিনা হয়েছে। আর বাকি ১৫ থেকে ২০ ভাগ ব্যয় চলে সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক ও স্বেচ্ছায় দান করা দানশীলদের অর্থায়নে।

সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিটি বিতরণ অনুষ্ঠানে শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লুৎফর রহমান লিখনের সাথে এ সংগঠনের আজীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. শফিকুল ইসলাম পিপুলসহ বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সংশ্লিষ্ট এতিম খানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকার গন্যমান্য, শেরপুর যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকগন উপস্থিত থেকে উৎসাহ প্রদান করে আসছেন বলে সরজমিনে দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!