তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার অবহেলায় গ্রেফতার হচ্ছেননা আসামীরা

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার অবহেলায় গ্রেফতার হচ্ছেননা আসামীরা

শেরপুর প্রতিনিধি:প্রেমে প্রতারিত হয়ে আত্ম হত্যাকারী সেই স্কুল ছাত্রী রাত্রি অরফে ঋতুর মামলার আসামীদের দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে প্রভাবশালী প্রেমিক সেই রাশেদ ও তার সহযোগীরা। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেননা এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করছেন মামলার বাদী ঋতুর মা আকলিমা আক্তার শাফি। এছাড়াও মেয়ে রাত্রি ওরফে ঋতু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও প্রভাবশালী দের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্টাপাল্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এসআই আনোয়ার হোসেন এর কাছে আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়টি ঋতুর মা মুঠোফোনে জানতে চাইলে নানা অজুহাত ও তালবাহনা করে থাকেন এবং কথা শেষ না করতেই ফোন রেখে দেন। দায়িত্বে অবহেলা করার কারনেই আসামীদের গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হয়নি। শেরপুরের পুলিশ সুপারসহ উর্ধতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন মেয়ে হারা অসহায় সেই গার্মেন্টস কর্মী মা আকলিমা আক্তার শাফি। শুক্রবার ১৯মার্চ বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন এমন অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার নাবালিকা মেয়ে রাত্রি ওরফে ঋতুকে তার নানীর কাছে রেখে তিনি জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় একটি পোষাক কারখানায় চাকুরী করে সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেধাবী মেয়ে রাত্রি ওরফে ঋতুকে লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছিলেন। এরমধ্যে একই এলাকার মো. হারুন মিয়ার ছেলে মো. রাশেদ তার কোমলমতি মেয়ে ঋতুর সাথে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে দৌহিক সম্পর্কও গড়ে তুলেন এবং এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে এ ঘটনায় প্রেমিকা রাত্রি ওরফে ঋতু প্রেমিক মো. রাশেদকে বিয়ের করার জন্য চাপ দেন। পরে সে এসব প্রেম ও ভালোবাসার কথা অস্বীকার করলে তার বাড়ীতে যায় রাত্রি ওরফে ঋতু। পরে প্রেমিক মো. রাশেদের আত্মীয়-স্বজনরা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে মো. রাশেদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়।
এদিকে রাত্রি ওরফে ঋতু অপমানিত এবং প্রেমিক রাশেদের প্রেমে প্রতারিত হয়ে অবশেষে ওই দিন একটি ডায়েরীতে প্রেম ঘটিত অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা একটি সুইসাইড নোট লিখে রাত্রি ওরফে ঋতু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
আত্মহত্যার পর খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ রাত্রি ওরফে ঋতুর লাশের সাথে সুইসাইড নোট সহ ডায়েরী উদ্ধার করেন। পরে লাশের সূরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে তার লাশ প্রেরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!