সপ্তাহব্যাপী সারা দেশ লকডাউন|| কিছু ব্যবসায়ীরা কি এবারও পলান্তি পলান্তি খেলবে?

সপ্তাহব্যাপী সারা দেশ লকডাউন|| কিছু ব্যবসায়ীরা কি এবারও পলান্তি পলান্তি খেলবে?

মানিক দত্ত: করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে ২য় ধাপের আক্রমণে চরম আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। মৃত্যুর হারও বাড়ছে ব্যাপক হারে। আজ ৩ এপ্রিল এ লেখার দিন শেরপুরে আক্রান্ত ৪ জন, ৩ জন শেরপুর সদর এবং ১ জন নালিতাবাড়ী উপজেলাতে। শেরপুরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৬১৪ জন, সুস্থ হয়েছেন ৫৭৯ জন, মৃত্যু বরণ করেছেন ১৩ জন। সারাদেশে আজ আক্রান্ত ৫৬৮৩, মৃত্যু ৫২ জন। অন্যান্য জেলার চেয়ে শেরপুরে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও আক্রান্তের বাহিরে নয়। শেরপুরের মানুষ করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে খুব একটা সচেতন নয়। সচেতন করতে সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানএবং রাজনৈতিক দলের ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয় হলেও সাধারণ মানুষের গুরুত্ব কম। ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন সরকার। আমার ধারনা লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে কারণ বর্তমান পরিস্থতি খুব তারাতাড়ি স্বাভাবিক হবে মনে হয় না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প কারখানা এবং মালবাহী রেল চলবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সব কিছুই বন্ধ থাকবে। তবে সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান, ঔষধের
দোকান খোলা থাকবে। হয়ত শর্ত সাপেক্ষে কাঁচা বাজার, নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে পারে, আমার জানা নেই।
করোনা ভাইরাস আক্রান্তের প্রথম দিকে সরকার লক ডাউন মেনে চলার জন্য সরকারীভাবে অর্থাৎ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট চেষ্টা এবং পরিশ্রম করেছেন। কর্মকর্তাদের জীবন বাজী রেখে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারী অনেক কর্মকর্তাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন। অপর দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি মহোদয়ও জেলা সদরের ১৪টি ইউনিয়ন ঘুরে ঘুরে মানুষকে সচেতন করেছেন। খাদ্য প্রদান করেছেন। তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তেমনি অনেক রাজনৈতিক নেতা, দল, বেসকরাী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই সচেতন করেছেন এবং খাদ্যদ্রব্য প্রদান করেছেন কিন্তু কিছু কিছু অসুদপায়ী ব্যবসায়ী এমনকি নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুকিয়ে লুকিয়ে খোলা রেখেছেন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে। তারপরও তাদের কাজ তারা চালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন।
৫ এপ্রিল থেকে ১ সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা প্রদানের পরপরই অনেকে আমাকে বলেছেন এবারও কি তারা আগের মতই করবেন? আমাকে বলার কারণ হলো অন্যান্য অনেকের মতো আমারও হালকা কিছু ভূমিকা ছিল, সকলেই যেন লকডাউন মেনে চলে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তাদের নিকট আমার অনুরোধ থাকবে, যাহারা আপনাদের সাথে পলান্তি পলান্তি বা লুকোচুরি খেলে, এবার যদি তারা আগের মতই করার চেষ্ঠা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন। আইন সকলের জন্য সমান এটা শেরপুরবাসী দেখতে চায়। শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ এবার একটু দায়িত্ব পালন করুন সাহসিকতার সহিত। ভয়ের কিছু নেই, ভোট কমবে না, বাড়বে। আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত নিজে ভালো তো সব কিছুই ভালো। আমি ভালো হলে সমাজ অবশ্যই ভালো হবে।
আসুন স্বাস্থবিধি মেনে চলি, নিজে বাঁচি,অপরকে বাঁচাই। নিজে ভালো থাকি, দেশকে ভালো রাখি।
মনে রাখা উচিত, লোভে পাপ, পাপে বিনাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!