বাজারে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো||মানিক দত্ত

বাজারে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো||মানিক দত্ত

গণপরিবহনের মালিকের চেয়ে শ্রমিকেরা বেশী কষ্টে আছে। তারা আশায় ছিলেন হয়তো ৫ মে রাত হতে গণপরিবহন চলবে। কিন্তু আজ আবার লকডাউন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসায় তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা অন্য কাজও করতে পারছে না, অন্য কাজও জানে না। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারবে না। যারা দূর পাল্লার যানবাহনের চালক, সুপারজভাইজার,হেলপার তারা তো বেকার। অন্য কিছু করতেও পারছেন না। তাদের এমন অর্থও জমা থাকে না যা দিয়ে বসে বসে মাস মাস খাবে। তারা যান বাহনে মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন কাজ করতে পারেন। এই কয়দিনের উপার্জনের অর্থ দিয়ে তারা মাস চালান। রমযান মাস চালানোই কঠিন হচ্ছে, ঈদ করবেন কি ভাবে এই ভেবেই তারা দিশেহারা। নয়আানী বাজারে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। বাজার করতে গিয়ে দেখতে পেলাম আামার পরিচিত একজন লোক কচু বিক্রী করছে। সে আসলে তরিতরকারী ব্যবসায়ী নয়। সে ঢাকা- শেরপুর চলাচলকারী বাস গাড়ির সুপারভাইজার। কথা হলো। বললো ” ভাই আমি তো বাধ্য হয়ে এ কাজ করে বৌ-বাচ্চার ডাল-দিতে পারছি কিন্তু উস্তাতের ( বাসের চালক) তো অবস্থা বেগতিক, সে এ কাজও করতে পারছেন না। সংসার চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে সুদিকরে টাকা নিয়ে বাজার করে খাচ্ছেন। উস্তাতের মুখের দিকে তাকানো যায় না। আল্লাই জানেন কবে এ অবস্থা ভালো হবে।” কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানতে চাইলে বললো,” ভাই ৫/৭ কেজি চাউল,কিছু তেল,লবন,আলু দিয়া কি হবো ১ না ২ দিন গেলো, তার পরে?। ” উত্তর না দিয়ে শুভ কামনা করে চলে আসছি এমন সময় সে বললো,” ভাই কচু ছিলার সময় আপনি আমার একটা ছবি উঠাইছেন, ছবিটা কাউকে দেখাইয়েন না, লজ্জা লাগে। ছবি উঠানোর সময় তো তোমাকে বলেই উঠালাম তখন না করলে না কেন? বলতেই, ” ভাই আপনি কিছু মনে করেন তাই।” এ জন্য পোষ্টে ছবিটি দিলাম না।
* আজ ৪ মে লকডাউন বৃদ্ধির ঘোষনা আসাতে আমি একটি পোষ্ট দিয়েছি। সেখানে ভাড়ায় প্রাইভেটকার এবং মাইক্রোবাস ঢাকা যেন না যেতে পারে সেটার জন্য আহ্বাণ ছিল, কথাছিল মনের দুঃখে কারন যাত্রীবাহী সকল কিছু বন্ধ তারা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে আর অনেকে উচ্চহারে ভাড়ায় যানবাহন চালাচ্ছে, এটা হতে দেয়াটা ঠিক নয়। আবার লুকিয়ে লুকিয়ে গভীর রাতে বাস চালাচ্ছে আর অন্যেরা না খেয়ে আছে এটা হয়তো ঠিক নয়। সে প্রেক্ষিতেই এ আহ্বান ছিল। গণপরিবহন চলাচল করলে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাবে তাতে করোনা ভাইরাস বেশী ছড়াবে। সে কারনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। উদ্দেশ্য ভালো, পদক্ষেপ ভালো। কিন্তু সবাই তো চলতে পারছে। এরা চলতে পারছে না। এদের প্রনোদনা প্রদানের পরিমান বৃদ্ধি করে প্রদানের ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সাথে সংশ্রিষ্ট শ্রমিক ইউনিনয়নের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা আপনাদের সদস্যদের এই কঠিন সময়ে সহযোগিতার হাত বৃদ্ধি করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.