তামিমের সঙ্গী সৌম্য, আশরাফুলের পছন্দের একাদশে নেই লিটন

তামিমের সঙ্গী সৌম্য, আশরাফুলের পছন্দের একাদশে নেই লিটন

বিশেষ সংবাদদাতা ।।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেমন হতে পারে টাইগারদের টিম কম্বিনেশন? কতজন ব্যাটসম্যান, কতজন পেসার ও স্পিনার থাকবেন দলে? কাদের দিয়ে সাজানো হবে একাদশ? অধিনায়ক তামিম, হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো আর নির্বাচকরা মিলেই সাজাবেন দল। বেছে নেবেন সেরা ১১ জন।

তবে প্রচন্ড গরমকে বিশেষ বিবেচনায় আনতেই হচ্ছে। জৈষ্ঠের এ খরতাপে ৫ জন স্পেশালিস্ট বোলার তো বটেই বাড়তি বোলিং অপশন না রাখলে বোলারদের নাভিশ্বাস উঠে যাবার সম্ভাবনা থাকবে।

তার ওপর উইকেট অনেক দিন ধরে ব্যবহার হয় না। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট কোন ধরনের উইকেট চেয়েছে? সেটাও পরিষ্কার হয়নি। শোনা গেছে এবং ভেতরের খবর, স্বাগতিকরা ‘টিপিক্যাল স্লো এন্ড লোথ ট্র্যাকের বদলে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচে খেলার পক্ষে।

এমন উইকেটের জন্য লাগসই একাদশ কী হতে পারে? জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার পছন্দের একাদশ সাজিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক গরমের কথা চিন্তা করে তিনজন পুরোদস্তুর পেস বোলার খেলানোর পক্ষে।

আশরাফুলের দলে নেই লিটন দাস। তার করা একাদশ নিয়ে আশরাফুলের ব্যাখ্যা, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে তিন ম্যাচের সিরিজ আর নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সমান সংখ্যক ম্যাচ শেষে ৬ ম্যাচে লিটন দাস চরম ব্যর্থ। এই ম্যাচগুলোয় তার সর্বোচ্চ রান মাত্র ২২ (১৪, ২২, ০, ১৯, ০, ২১)।

আশরাফুল বলেন, ‘একটি দুটি ম্যাচ হলে বলতাম না। আর ঘরের মাঠে ভাল খেলে নিউউজিল্যান্ডে গিয়ে রান না পেলেও হয়ত লিটনকে না খেলানোর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতাম না। কিন্তু লিটন দুই জায়গায়ই খারাপ খেলেছে। একদমই রান পায়নি। রান করতেই কষ্ট হয়েছে। বোঝাই গেছে ফর্মে নেই। আমি অফ ফর্মের লিটনকে খেলানোর বিপক্ষে। তার বদলে সৌম্য আমার ফার্স্ট চয়েজ। আমি তামিম ইকবালের সাথে সৌম্যকে দিয়ে ওপেন করাতে চাই।থ

কিন্তু কেন? সৌম্যও তো ওয়ানডেতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। তারও তো শেষ চার ম্যাচে (৭, ০, ৩২, ১) ম্যাচে রান নেই।

আশরাফুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তা পারেনি সত্য, তবে সৌম্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাহসী ও আগ্রাসী ব্যাটিং করেছে। তার ওই ২৭ বলে ৫১ রানের ইনিংস অবশ্যই ভিতরে সাহস সঞ্চারিত হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অনভ্যস্ত ও প্রতিকুল কন্ডিশনে কিউই বোলারদের বিপক্ষে এমন আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলার পর আমার মনে হয় অফফর্মের লিটনের চেয়ে সৌম্যই ওপেনিংয়ে বেটার অপশন। আমি প্রথম দুই ম্যাচে ওপেনার হিসেবে খেলানোর পক্ষে তাকে।থ

‘তিনে অবধারিত সাকিব। তারপর মুশফিক। এ দুটি নাম সব কিছুর উর্ধে। তারা টিম বাংলাদেশের সম্পদ। ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। এরপর আমি মিঠুনকে খেলাতে চাই। মিঠুন নিউজিল্যান্ডে (দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৭ বলে ৭৩*) ভাল ইনিংস খেলেছে। খুব স্বাভাবিকভাবে তার সাহস কাজ করবে। নিউজিল্যান্ডের তুলনায় আমাদের দেশের উইকেট আরও অনেক বেশি সহজ। যদি ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচ হয়, তাহলে মিঠুন অবশ্যই প্রথম একাদশে থাকার দাবিদার। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও অটোমেটিক চয়েজ। তাকে খেলানো নিয়েও মনে হয় না কোন সংশয় সন্দেহ আছে বা থাকার কথা। তার মান, অভিজ্ঞতা সবই দলের অনেক উপকারে আসার মত উপকরণ।থ

‘এরপর হয়ত কেউ সাইফউদ্দীনকে খেলানোর কথা বলবেন। তবে আমি তা করবো না। আমার পছন্দর একাদশে সাইফউদ্দীন নেই। আমি পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দীনের বদলে দুথজন অফস্পিনার কাম লেট অর্ডার শেখ মেহেদি ও মেহেদি হাসান মিরাজকে খেলানোর পক্ষে। শেখ মেহেদি অবশ্য নিউজিল্যান্ডে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেনি। তবে ভাল বল করেছে। তাই তাকে আমি প্রথম দুই ম্যাচ খেলাতে চাই। এরপর মেহেদি মিরাজ চলে আসবে হেঁটে হেঁটে। আমি সাইফউদ্দীনকে অলরাউন্ডারের কোটায় খেলানোর পক্ষে নই। তাকে নিউজিল্যান্ডে দেখে আমার মোটেই কার্যকর মনে হয়নি। আমার একাদশে তাই বাঁ-হাতি মোস্তাফিজের সাথে এক্সপ্রেস তাসকিন আর নতুন সেনসেশন শরিফুল আছে।থ

আশরাফুলের মনোনীত একাদশ

তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শেখ মেহেদি, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.