সংসদ সচিবালয়ে কর্মরতদের অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা কি বাড়ছে?

সংসদ সচিবালয়ে কর্মরতদের অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা কি বাড়ছে?

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ।জাতীয় সংসদে কর্মরত দৈনিক ভিত্তিক বার্ষিক কর্মচারীদের মজুরির হার বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এ ছাড়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা বাড়তে পারে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নজরে আনা হচ্ছে। আগামী ৩০ মে রোববার সংসদের ৩১ কমিশন বৈঠকের এজেন্ডায় রাখা হয়েছে বিষয়গুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদে ১৪৫ জনের মতো দৈনিক ভিত্তিক বার্ষিক কর্মচারী রয়েছেন। তারা অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী, কম্পিউটার আপারেটর, তিন পদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন।

তাদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় ১০ বছর চাকরি করার পর এখনও মাসে মাত্র ১৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া তারা দুটি ঈদ ও পয়লা বৈশাখের ভাতা পান না। তবে অধিবেশন চললে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা পান।

শুধু সাংবাৎসরিক কর্মচারীরা নন, সংসদে কর্মরত সব শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া অধিবেশন না থাকলে সাড়ে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা পান তারা।

এ বিষয়ে সংসদের এক সিনিয়র যুগ্মসচিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংসদ চলাকালীন অনেক সময় আমাদের রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু আমরা ঘণ্টা হিসেবে ওভার টাইম বা অতিরিক্ত খাটুনি ভাতা পাই না। মাত্র ৫০০ টাকা পাই। তাই এই অতিরিক্ত ভাতার দাবি দীর্ঘদিনের।থ

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী খুবই হৃদয়বান ব্যক্তি। যেসব দাবি উঠেছে, আমার তো মনে হয় তা পূরণ হবে।থ

সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত সংসদ কমিশন বৈঠক সংক্রান্ত চিঠি থেকে জানা যায়, ‘৩০ মে বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের দ্বিতীয় লেভেলে অবস্থিত কেবিনেট কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশন বৈঠকের সভাপতি হিসেবে স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী বা তার মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা বা তার মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য, আইনমন্ত্রী বা তার মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য, অর্থমন্ত্রী বা তার মনোনীত কোনো সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈঠকের এজেন্ডর মধ্যে আরও রয়েছে, সংসদ সচিবালয় কমিশনের গত ৩১তম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ, সংসদ সচিবালয় কমিশনের গত বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন-অগ্রগতি পর্যালোচনা, জাতীয় সংসদের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং ২০২২-২০২৩, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন। এ ছাড়া সংসদ সচিবালযয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯৪ সংশোধন ও অর্গানোগ্রাম হালনাগাদকরণ, সংসদ সচিবালয়ের চলমান প্রকল্পসমূহের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রাক্কলিত বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিগণের কার্যালয়ে ২১ ইঞ্চি বক্স টেলিভিশনের পরিবর্তে ৪০ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন সরবরাহের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!