আশরাফুলের দুর্ভাগ্য, নাসিরের শূন্য

আশরাফুলের দুর্ভাগ্য, নাসিরের শূন্য

বিশেষ সংবাদদাতা ।মোহাম্মদ আশরাফুল নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ভাগ্য সহায় থাকলে হয়তো আজ শেরে বাংলায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণের বিপক্ষে ফিফটি পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সঙ্গী নুরুল হাসান সোহানের সহযোগিতা না পেয়ে রানআউট হয়ে ফিরে গেছেন ৩৮ রানে।

ওই ৩৮ রান করতে আশরাফুল খেলেছেন ২৬ বল। টি-টোয়েন্টির হিসেবে খুব আহামরি ব্যাটিং না হলেও আশরাফুল যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, ততক্ষণ রানের ফলগুধারা বইছিল।

আশরাফুল আর সৈকত আলী প্রথম উইকেটে ৮.২ ওভারে ৭৩ রান তুলে দেন। সৈকত ২৬ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৩৮ রান করে ফেরার কিছু পরই রানআউটের খপ্পরে পড়েন আশরাফুল। মাঝে শূন্যতে আউট হন নাসির হোসেন।

আশরাফুলের আউটটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। সুইপ খেলে ডিপ স্কোয়ার লেগে বল পাঠিয়ে দৌড়ে বোলিং এন্ডে চলে এসেছিলেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। ফাইন লেগে থেকে খানিকটা দৌড়ে বল তুলে ব্যাটিং প্রান্তে থ্রো করেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণের পেসার খালেদ আহমেদ।

খেলা টিভিতে সম্প্রচার হচ্ছে না। তাই টিভি রিপ্লে নেই। তবে প্রেস বক্স থেকে মনে হয়েছে, বল ধরে থ্রো করার আগে খালেদের পা দড়ি স্পর্শ করেছিল। যেহেতু কোনোরকম টিভি রিপ্লে নেই, তাই কেউ চ্যালেঞ্জ করে বলতেও পারবেন না যে খালেদের পা দড়ি স্পর্শ করেছিল।

কিন্তু আশরাফুলের আফসোস অন্য কারণে। তিনি সিঙ্গেলস শেষ করার পর দৌড়ে বোলিং এন্ড থেকে ব্যাটিং প্রান্তে চলে এসেছিলেন। কিন্তু এ প্রান্তে সোহান ঠায় দাঁড়িয়েই রইলেন। আশরাফুল প্রান্ত বদলে তার কাছে চলে আসার পরও সোহান না দৌঁড়ে দাড়িয়ে থাকায় আশরাফুল পাল্টা ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন আর সময় ছিল না। খালেদের থ্রো ধরে কিপার জহুরুল ইসলাম অমি বোলারের হাতে দিলে আশরাফুল রানআউটের শিকার হন।

আশরাফুল আর সৈকত ভালো ব্যাট করলেও হতাশ করেছেন নাসির হোসেন। জাতীয় লিগে বলেকয়ে রান করলেও প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে নাসির আউট হয়েছেন শূন্য রানে, সেটাও আবার ভাগ্যের সাহায্য পাওয়ার পরও।

প্রথমে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে অল্পের জন্য কট বিহাইন্ডের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন নাসির। কিন্তু পরের ওভারে পেসার খালেদের বলে বোল্ড হয়ে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

আশরাফুল একদিকে থাকলে হয়তো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের রান গতি আরও সচল থাকতো। স্কোরলাইনও হয়তো আরও লম্বা হতো। কিন্তু আশরাফুল আর সৈকত আলী- দুই ওপেনারের ব্যাট থেকে সমান ৩৮ রান আসার পর মাঝখানে একটু রানগতি কমে যায়।

অধিনায়ক নুরুল হাসান ২১ রানে আউট হন। এনামুল হক বিজয় শেষ দিকে হাত খুলে খেলায় শেখ জামালের রান গিয়ে ঠেকেছে ৬ উইকেটে ১৬৬‘তে। জিয়াউর ১৩ বলে ১৫, শুভ ৮ বলে অপরাজিত ১২ আর এনামুল ৫ বলে ৩ ছক্কায় ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

খেলাঘর সমাজ কল্যাণের হয়ে সফল বোলার ছিলেন খালেদ আহমেদ। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলা এ পেসার ২০ রানে ২ উইকেট দখল করেন। তবে
জাতীয় দলের স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ বল হাতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মিরাজের ২ ওভারে উঠে ১৮ রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!