বাজেটে প্রথম গুরুত্ব দিতে হবে ভ্যাকসিনে

বাজেটে প্রথম গুরুত্ব দিতে হবে ভ্যাকসিনে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী ৩ জুন নতুন অর্থবছরের (২০২১-২২) বা কোভিড-১৯ পরিস্থিতির দ্বিতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কেমন হবে এই বাজেট তা নিয়ে এখন সব মহলেই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

করোনাকালের এই বাজেটে প্রথমেই ভ্যাকসিনের ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি মনে করেন, করোনার পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে বাজেটে।

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমন অভিমত তুলে ধরেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, ‘করোনাকালের বাজেটে আমি মনে করি, প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে করোনার ওপর। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণ রোধ করার জন্য ভ্যাকসিনেশনের ওপর জোর দিতে হবে।

এক্ষেত্রে তিনটি উপায়ের কথা উল্লেখ করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘এই বছরের মধ্যেই যেন ১২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য ভ্যাকসিন কেনা ও ভ্যাকসিন ড্রাইভ (উৎপাদন ও সরবরাহ) করতে হবে। সে জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।

‘তারপর করোনার যদি বড় ধাক্কা আসে সেজন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখতে বাজেটেরই সাপোর্ট দিতে হবে সেখানেথ—বলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এই নির্বাহী পরিচালক।

তৃতীয় বিষয় হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই জন্য বিনিয়োগ করতে হবে ব্যক্তি খাতে। বাজেটে এ বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

এই বছরের মধ্যেই যেন ১২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া যায় তার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছেন ড. আহসান এইচ মনসুর।

বাজেটে ভ্যাকসিনের ওপর গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি করোনার কারণে যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা বেশি না, দুই হাজার টাকা করে প্রতি মাসে দিলেই হবে। এক কোটি পরিবারকে এই সহায়তা দিলে মোটামুটি সবাই স্বস্তিতে থাকতে পারবে।

এ সময় বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান নিয়েও কথা বলেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ পরিস্থিতি অনেকদিন ধরেই ভালো না। বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ তৈর করতে হবে। সেখানে টাকা-পয়সার কিছু নাই।

আর কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। আমাদের কর্মসংস্থানে সমস্যা হলো- শিক্ষাব্যবস্থা খারাপ। এটা অশিক্ষিত শিক্ষিত আর কি। যেখানে যে দক্ষতার লোক দরকার, সেখানে সেই ধরনের লোক আমরা পাই না। আর যেসব বিষয়ে চাকরি নেই, সেসব বিষয়ে সবাই এমএ, বিএ পাশ করে বসে আছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের লেখাপড়া করে তো লাভ নেই। আইবিএ করবে খুব ভালো ছেলেরা, যার সংখ্যা অল্পকিছু। বাকি সবাই টেকনিক্যালে পড়বে। তাহলে আমাদের এই সমস্যার সমাধান হবে।

বাজেট কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের বাজেটে কোভিডের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল। এবার যেন এটা না হয়। বাজেটের পুরোটাই কোভিডকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘করোনার এই সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল প্রণয়ন এবং তা বাস্তবে রূপ দেয়া অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে বাজেট উচ্চাভিলাষী না হয়ে, বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.