জলাতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে কুকুরকে দেওয়া হবে টিকা

জলাতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে কুকুরকে দেওয়া হবে টিকা

শেরপুর প্রতিনিধি

গত এক মাসের মধ্যে তিনদিনে শেরপুরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে শিশু-নারীসহ অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মানুষ ও পশুকে কামড় দিচ্ছে কিছু পাগলা কুকুর। অল্প সময়ে এত সংখ্যক মানুষ ও পশুকে ইনজেকশনের আওতায় আনার বিষয়টি নজরে আসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের।

কিন্ত আইনগতভাবে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছিল না।

এনিয়ে আতঙ্কে রয়েছে শেরপুরের বেশ কিছু এলাকার মানুষ। অবশেষে আগামী ৪ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত চারদিন ব্যাপকহারে কুকুরকে জলাতঙ্ক নির্মূলে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ।

মঙ্গলবার দুপুরে কুকুরকে টিকার আওতায় আনা সংক্রান্ত কার্যক্রম উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আনওয়ারুল রউফ।

রিসোর্স পার্সন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপ-পরিচালক সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সবুর, জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর হাই, মো. রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুনসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সভায় জানানো হয় এই চারদিনে সারা জেলায় ব্যাপক সংখ্যক কুকুরকে এই টিকার আওতায় আনা হবে।

সিভিল সার্জন জানান, কুকুরের অত্যাচার ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত এই ব্যবস্থা নিয়েছে। টিকার আওতায় আনা কুকুরগুলোর শরীরে বিশেষ লাল চিহ্ন দেওয়া হবে।

কুকুরকে টিকা দেওয়া হলেও কাউকে কুকুর কামড়ালে তাকে অবশ্যই টিকার আওতায় আসতে হবে। কুকুরকে টিকা দেওয়া পরপর অন্তত তিন বছর টিকা অব্যাহত রাখা গেলে এবং জাতীয়ভাবে একযোগে সকল স্থানে কুকুরকে টিকা দিতে পারলে জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষা পেতে বড় ধরনের অগ্রগতি পাওয়া যেত বলে ধারণা করছেন সিভিল সার্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!