নকলায় সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা-সত্যবয়ান

নকলায় সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা-সত্যবয়ান

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:ভূমি সেবা সপ্তাহ (৬ জুন থেকে ১০ জুন) উপলক্ষে সকল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভূমি মালিক তথা সেবা গ্রহীতাদের সেবাদানে এবং নিজের ভূমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) নিজেই পরিশোধে করার সুবিধার্থে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করার লক্ষে তাদের কাছে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

“ভূমি সেবা ডিজিটাল, বদলে যাচ্ছে দিনকাল” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রবিবার শেরপুরের নকলায় ভূমি সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করা হয়। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের লক্ষে সপ্তাহব্যপী ওয়ানস্টপ ভূমি সেবা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান। এ কার্যক্রম উদ্বোধনরে পর থেকে যতই সময় যাচ্ছে, ততই ভূমি মালিকরা নিজের জমির মালিকানা ডিজিটালাইজড করতে তথ্যদানে আগ্রহী হচ্ছেন।

৭ জুন সোমবার দুপুরের দিকে নকলা উপজেলা ভূমি অফিসে এবং সন্ধ্যায় নকলা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূমি মালিকরা সেবা নিতে ও তথ্য দিতে অপেক্ষাগারে বসে অপেক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দানে ও ভূমির মালিকদের কাছে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসার মো. হযরত আলী জানান, সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমি সেবা গ্রহীতাদের স্বল্প ব্যায়ে, কম সময়ে ও সহজ সেবা প্রদানের জন্য ৬ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সকল ধরনের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভূমি সেবা গ্রহীতাদের উপস্থিতি ও সেবার মান বাড়াতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হয়েছে। প্রচারনার অংশ হিসেবে মাইকিং করা, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট-পোস্টার ও বিভিন্ন শ্লোগান সমৃদ্ধ ফেস্টুন লাগানো উল্লেখযাগ্য।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাউছার আহাম্মেদ জানান, জমির মালিক তার সহজে ভূমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধ করতে পারছেন। এই ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইলজড করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১০টি মডিউলসমৃদ্ধ ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এলআইএমএস) নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারের আওতায় অন্য মডিউলগুলোর মধ্যে ভূমি নামজারি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা, ভূমি নামজারি পর্যালোচনা ব্যবস্থাপনা, ভূমি মিস কেস ব্যবস্থাপনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, খাজনা সনদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্যতম। ভূমি সেবার বাকি কার্যক্রমগুলো পর্যায়ক্রমে এর আওতায় আসবে। অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো স¦য়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, কোন ভূমির মালিক তার জমির সঠিক তথ্য ভূমি অফিসে গিয়ে একবার দিলে ও ডিজিটালাইজড করা হলে, পরে ওই জমি নিয়ে আর কোন সমস্যা পোহাতে হবে না; অফিসে দৌঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই নিজের জমির সেবা নিতে পারবেন এবং নিজের ভূমির তথ্য ঘরে বসেই আপডেট দিতে পারবেন। এতে কমবে হয়রানি, বাঁচবে সময় ও অর্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!