বাজেট অধিবেশনে হুইপ আতিক যা বললেন

বাজেট অধিবেশনে হুইপ আতিক যা বললেন

*** চলতি বাজেট অধিবেশনে আজ ১৫ জুন দুপুরে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক বক্তব্য রাখেন। হুইপ আতিকের বক্তব্য হুবহু নিন্মে তুলে ধরা হলোঃ-

মাননীয় স্পীকার,
আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। গত ৩ জুন মাননীয় অর্থমন্ত্রী ১৯২ পৃষ্ঠার বাজেট জাতির সামনে উপস্থাপন করছেনে এবং যার শিরোনাম দিয়েছেন- “জীবন জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদশে।“
মাননীয় স্পীকার,
ভাষণের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরবিারর্বগকে। সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অমর শহীদদের এবং চার জাতীয় নেতাকে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যিনি আমাকে পর পর ৫ বার নির্বাচন করার সুযোগ দিয়ছেনে। আমি ধন্যবাদ জনাই আমার নির্বাচনী এলাকা শেরপুর-১ এর আওয়ামী পরিবারের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের এবং সর্বস্তরের জনসাধারণকে, যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রখেে আমাকে বারবার নির্বাচিত করছেনে।
মাননীয় স্পীকার,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত র্বতমান সরকার স্বপ্নের দিগন্ত প্রসারতি করেছে, আর বৃদ্ধি করছেে স্বপ্ন বাস্তবায়নরে সক্ষমতা। রূপকল্প ২০২১ অনুসারে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতির সামনে ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। আমি এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে।
মাননীয় স্পীকার,
কোভডি-১৯-এর উর্পুযপরি অভিঘাত, র্অথনীতির উপর এর র্দীঘতর প্রভাব, স্বাস্থ্যখাতে অপ্রত্যাশতি প্রয়োজন মেটানো অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্বাভাবকি রাখা, সফলভাবে কোভিড-১৯ প্রতিষেধক টীকাদান ও সর্বোপরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মূলতঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও বিচক্ষণ দিকনির্দশনায় ২০২১-২২ র্অথবছররে বাজটে প্রস্তুত করা হয়েছে।
মাননীয় স্পীকার,
করোনাভাইরাসজনিত সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যপি প্রশংসতি হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদরে পাশের দেশে করোনা মহামারী আকার ধারণ করলেও, বাংলাদশেে এখনো আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে।

মাননীয় স্পীকার,
বিশ্বব্যপী করোনা দূর্যোগের কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হয়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিকনির্দশেনায় এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশকে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। বোরো ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো হাইব্রিড ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অভ্যন্তরীন উৎস হতে ২০.৫৫ লক্ষ মে.টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি ভর্তুকি, সার-বীজসহ অন্যন্য কৃষি উপকরণ প্রণোদনা ও সহায়তা কার্ড, সেচ সুবিধা, শস্য বহুমুখীকরণ ও বিপণন, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা ইত্যাদি সফল কার্যক্রমসহ কৃষি উৎপাদনের স্বার্থে অব্যাহত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কীটনাশকমুক্ত শাকসবজির যোগান দিতে যাত্রা শুরু করেছে ‘‘কৃষকের বাজার’’। সারাদেশে বর্তমানে ৪১টি জেলায় কৃষকের বাজার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কৃষকগণ কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে। বিদেশে কৃষিপণ্যের আরো বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় চেষ্ঠ চালয়িে যাচ্ছে। অতীতের যে কোন সময়রে চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাননীয় স্পীকার,
যারা পদ্মা সেতু নির্মাণে সন্দিহান হয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন তারাই এই সেতু বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখে মুখে কুলুপ মেরে বসে আছে। করোনা মহামারীর প্রকোপের মধ্যেও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভৌতিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। মেট্রোরলসহ অন্যান্য মেগ প্রকল্পগুলোও শেষের পথে। এজন্য আমি মাননীয় সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরকি ধন্যবাদ জানাই। তাছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় দেশব্যপি ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আমি এজন্য সংশ্লষ্টি সকল মন্ত্রী মহোদয়কে আন্তরকি ধন্যবাদ জানাই।
মাননীয় স্পীকার,
জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু আজ বাংলাদেশের নেত্রীনন, তিনি বিশ্ব নেত্রী। তিনিআজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিচয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে পরিচিত। এক সময়ের বিশ্বের দরিদ্রতম দশটি দেশের অন্যতম ছিল বাংলাদেশ। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরর্দশী নেতৃত্বের কারণে বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনিমিক এ্যান্ড বিজনেজ রিসার্চ-এর মতে, অর্থনৈতিক বিকাশ অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বর ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিনত হবে বাংলাদেশ। মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার উচ্ছ্বসতি প্রশংসা করেছেন বিনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকে তার সামর্থ দেখিয়ে চলেছে। এখন কেবল সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর দেরি করা যাবে না’’।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি ঝিং পিং বলেছেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু তাঁর সমগ্র জীবন নিজের দেশ আর মানুষের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। তাই আজও বাংলাদেশের জনগণের কাছে তিনি এত প্রিয়। তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্ন এখনো বাংলাদেশের বিকাশে ১৬কোটি মানুষকে উদ্দীপ্ত করে’’।
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপাকসে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদশেকে নিয়েছেন গর্ব করার মত এক উচ্চ আসনে।

মাননীয় স্পীকার,
আমাদরে মহান স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মর্বাষিকী উদযাপনের বছরে ঘোষিত এই বাজেট আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
মাননীয় স্পীকার,
আমি এখন আমার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের সদরের সাধারণ মানুষের কিছু প্রত্যাশার কথা বলতে চাই।
শেরপুরে মেডিকেল কলেজ, রেল লাইন, শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য আকুল আবদেন জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার,
আমি এখন আমার নির্বাচনী এলাকা শেরপুর সদরের সাধারণ মানুষের কিছু প্রত্যাশার কথা বলতে চাই।
শেরপুরে মেডিকেল কলেজ, রেল লাইন, শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। আমার নির্বা চনী এলাকায় গ্রামীণ রাস্তায় মাঝারী ধরণের ১২ টি ব্রীজ জরুরী ভিত্তিতে নির্মান করার জন্য মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয়রে দৃষ্টি আর্কষন করছি।
৬নং কামারচর দশানীর উপর ব্রীজ;
লছমনপুর-হাড়িভাঙ্গা ব্রীজ;
চরজঙ্গলদী বেতমারী ব্রীজ;
বলাইয়ের চর-গলৈাপাতি ব্রীজ;
বলাইয়ের চর-কাঠালতলী ব্রীজ;
লছমনপুর-কানাশাখলা রাস্তায় মৃগী নদীর উপর ব্রীজ;
ভাতশালা-ইলশা-ছনকান্দা রাস্তায় ব্রীজ;
গাজীর খামার- কুরুলিয়া কান্দা ব্রীজ;
চাড়ালিয়া ব্রীজ;
গাজীর খামার-গজারিয়া-চকপাড়া রাস্তায় ব্রীজ;
চরপক্ষীমারী-টাকীমারী ব্রীজ;
চরখারচর-বেতমারী-খাসপাড়া খালের উপর ব্রীজ।

মাননীয় স্পীকার,
জাতির জনকের হাত ধরেই এদেশের মানুষ পেয়েছে স্বাধীনতা ও রাজনৈতি মুক্তির স্বাদ। আবার তাঁর হাতেই রচিত হয়েছিলো দেশের অগ্রগতির প্রাথমকি ভিত্তি বাংলাদেশের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু আমাদের এ জাতির অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে আমাদের মাঝে ছিলেন, তিনি আছেন তিনি থাকবেন সূর্যের মত দেদীপ্যমান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়ার সোনালী যুদ্ধ এখনো অব্যাহত আছে অব্যাহত থাকবে। এ অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে বাধাগ্রস্ত হলেও তাঁর সুযোগ্য কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের র্অথনীতি আজ এক সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছছে।

আমরা পর্দাপণ করেছি সমৃদ্ধির সোপানে পেয়েছি অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ। ২০৪১ সালের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ মাধ্যম আয়ের দেশের স্তর পেরিয়ে একটি সুখী, শান্তি ও সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে ইনশাল্লাহ। মাননীয় স্পীকার আপনাকে ধন্যবাদ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আল্লাহ হাফেজ
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; বাংলাদেশ চীরজীবী হউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!