শেরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোঘল স্থাপত্য শৈলির অনুকরণে তৈরি হচ্ছে নয়নাভিরাম মসজিদ

শেরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোঘল স্থাপত্য শৈলির অনুকরণে তৈরি হচ্ছে নয়নাভিরাম মসজিদ

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাকুড়িয়া গ্রাম। এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছেলেন জাকের পার্টীর প্রতিষ্ঠাতা খাজাবাবা ফরিদপুরি(আটরশি) হযরত হাসমত উল্লাহ।এখানে সমাহিত আছেন আটরশি পীরের বাবা আলি মদ্দিন সরকার।স্থানটি পাকুড়িয়া দরবার শরীফ হিসেবে মানুষের কাছে সমাদৃত। এখানেই নির্মান হচ্ছে মোঘল স্থাপত্য শৈলি “মসজিদ-এ মেহরিমা’র অনূকরণে খাজাবাবা ফরিদপুরীর(কুঃছেঃআঃ) সমজিদ। এই মসজিদর ডিজাইন, নির্মান কৌশল, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রি এলাকার মানুষের কাছে এক আগ্রহের নাম। এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাতদিন নির্মাণের টুংটাং শব্দ, কর্মীদের আসা যাওয়া ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতে মুখরিত দরবার শরিফ প্রাঙ্গন। মসজিদের নকশা ও নির্মাণ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন “নির্মাতা লিঃ” নামে একটি দেশীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান।
দরবার শরীফ ও নির্মাতা লিঃ সূত্র জানায়, আটরশি পীর হাসমত উল্লাহ চলে যান এনায়েত পুর পীরের কাছে। এনায়েত পুর পীরের কাছে দীর্ঘ ধিক্কা নিয়ে চলে যান ফরিদপুরের আটরশিতে। ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর পরে আটরশি পীর শেরপুরে নিজ জন্মভূমি শেরপুরের পাকুড়িয়ায় আসেন। তখন স্থানীয় লোকদের কথা দেন এখানে আধুনিক একটি মসজিদ ও হাসাপাতাল, মাদ্রাসা ও বেশ কিছু স্থাপনা হবে। ওই স্থানে তিনি মসজিদের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।কিন্ত নানা কারণে মসজিদটি হয়নি।২৪ বছর পর বাবার প্রতিশ্রুতি মত মসজিদের কাজে হাত দেন পীরের কনিষ্ঠপুত্র পীরজাদা মোস্তুফা ফয়সাল মোজাদ্দেদী। বাকি অন্যান্য সেবা মুলক কাজের জমি ক্রয় করা হচ্ছে। দ্রুত চলছে মসজিদের নির্মাণ কর্ম। মসজিদ এর নাম: বিশ্ব ওলি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) জামে মসজিদ। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নির্মাতা লিঃ জানিয়েছে, অনন্য স্থাপত্য শৈলীর আদলে মসজিদটি নির্মাণ কাজ চলছে। যার ৫টি গম্বুজ ও ৪টি মিনার হচ্ছে। ৫টি গম্বুজের মধ্যে ৪টি ছোট, ১টি বড় ও ৪টি মিনারের উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট। ৫টি গম্বুজ ও ৪টি মিনার একই রকম কারুকার্য ও স্থাপত্য শৈলীর আদলে তৈরী করা হচ্ছে। এই মসজিদটি চারপাশের দৈর্ঘ্য প্রস্থ এক এবং চারপাশে দেখতে একই রকম মনে হবে।মসজিদে নির্বিঘ্নে বাতাস আসা যাওয়ায় যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা না হয় থাকে তার জন্য থাকছে তেরটি দরজা ও বারটি জানালা।দরজার যার কাঠ আনা হচ্ছে দুবাই ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। জানালার নকশা ও কারুকার্য কংক্রিট ও কাঠের সংমিশ্রনে তৈরী হচ্ছে। মসজিদের ভিতর প্রবেশ করলে দেখা যাবে দৃষ্টি নন্দন সব ঐতিহাসিক ইসলামী স্থাপত্যের নকশা ও কারুকার্য। মসজিদের সম্পূর্ণ মেহরাবটি দুবাই থেকে আমদানীকৃত কাঠের তৈরী মনোরম নকশা ও কারুকার্য দিয়ে তৈরী হচ্ছে। মসজিদের টাইলস গুলো ইতালী ও জার্মানী থেকে আমদানীর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এই মসজিদের একটি অন্যন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো- বাহিরের তাপমাত্রা যতই বৃদ্ধি পাক মসজিদের ভিতরের তাপমাত্রা থাকবে ৩০ ডিগ্রি সেঃ। তাপমাত্রার এর বেশী কোন ক্রমেই হবে না। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তি।লাইটিং ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ থাকবে অসাধারণ স্মিন্ধ। বিস্তর অজুর ব্যবস্থা থাকছে।মসজিদের চারপাশে লাগানো হবে বিদেশী ফুল ফলের গাছ।নিরাপত্তার জন্য লাগানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা।এক সাথে নামাজ পড়তে পারবেন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। মসজিদের ভেন্টিলেশন ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই অটোম্যান সম্রাজ্যের “মসজিদ-এ মেহরিমা’র আদলে তৈরী করা হচ্ছে। মসজিদের কাঠামোগত নির্মাণ ব্যয় দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। সৌন্দর্য্য বর্ধন ব্যয় দশ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে খরচ আরও বাড়তে পারে। ব্যয় নির্বাহ করছেন পীরজাদা আলহাজ্ব মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী।স্থানীয়রা জানিয়েছে, মসজিদটি নির্মাণ শেষ হলে এই স্থাপনাটি হবে ওই এলাকার মুসলিমদের জন্য সুন্দর ও বড় একটি নামাজের স্থান। কাজ এগিয়ে চলছে।করোনার কারণে কাজের কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে। এক বছরে মসজিদের শতকরা ৪০ ভাগ শেষ হয়েছে। নকশা অনুযায়ি পরিপূর্ণ মসজিদ হতে সময় লাগবে আরও বছর দেড়েক। ইতিমধ্যে মসজিদ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই পীরের নামিদামি মুরিদরা প্রায়ই আসছেন। মসজিদটি নির্মান হওয়ার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীসহ শেরপুরবাসী উৎফুল্ল এবং আনন্দিত বলে অনেকেই জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!