৫৩ দিন পর ফিরোজায় খালেদা জিয়া-সত্যবয়ান

৫৩ দিন পর ফিরোজায় খালেদা জিয়া-সত্যবয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৩ দিন চিকিৎসা শেষে গুলশানে নিজের বাসা ফিরোজায় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার (১৯ জুন) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সিলভার রঙের গাড়িতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আসেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে কাজের সহকারী ফাতেমাও ছিলেন।

এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে গাড়িতে করে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। খালেদা জিয়ার বাসভবনে ফেরাকে কেন্দ্র করে বাসার আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার লোকজনকেও দেখা গেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া ছিল, যেন কেউ ফিরোজার সামনে ভিড় না করেন। এ কারণে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মেডিকেল বোর্ড হাসপাতাল থেকে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বিকালে হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় গেছেন।

মামুন বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমই তাকে তার বাসায় চিকিৎসা দিবে। গত ১১ এপ্রিল ৭৬ বছর বয়সী এই বিএনপি প্রধানের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির একদিন পর ২৮ এপ্রিল অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছিল বিএনপি নেত্রীর। গত ১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানো হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ফিরিয়ে আনা হয় গুলশানের বাসভবনে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি-প্রধানকে।

আক্রান্তের ২৭ দিন পর ৪ মে পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ হন। কিন্তু করোনা পরবর্তী জটিলতা ও অন্যান্য শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সিসিইউতে থাকা অবস্থায় গত ২৮ মে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। গত ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিন ফিরিয়ে আনা হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে গত ৬ মে খালেদা জিয়ার পরিবার তাকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু সরকার তা নাকচ করে দেয়।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার বাতজ্বর, হাঁটুর ব্যাথা, চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতা রয়েছে।

গত বছর ২৫ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!