আশরাফুলের ইনিংসে বিপদ, সোহান-তানভীর জেতালেন শেখ জামালকে

আশরাফুলের ইনিংসে বিপদ, সোহান-তানভীর জেতালেন শেখ জামালকে

বিশেষ সংবাদদাতা । মাহমুদুল হাসান লিমন, শুভাগত হোম আর নাদিফ চৌধুরী নাকি মোহাম্মদ আশরাফুল? কে বা কারা বেশি খারাপ খেলেছেন? তার ব্যবচ্ছেদ করতে গেলেই বেরিয়ে আসবে ম্যাচের ফল।

ওপরের প্রথম তিনজনের ব্যর্থতায় শেষ ৬ ওভারে মাত্র ৩১ রান উঠেছে মোহামেডানের বোর্ডে। আর খোয়া গেছে ৬ উইকেট। সে কারণেই স্কোর আটকে গেছে ১৩৩‘এ।
কিন্তু ওই ছোট্ট লক্ষ্যের পিছু ধেয়ে শেখ জামাল ওপেনার মোহাম্মদ আশরাফুল যেভাবে খেললেন, তাতে বড় বিপদেই পড়তে যাচ্ছিল শেখ জামাল। ৪২ বলে ৩৮ রানের ধীরগতির এক ইনিংস খেলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।

আশরাফুলের বল নষ্ট করা ইনিংসের পর শেষ ৬ ওভারে ৫০ রান দরকার ছিল শেখ জামালের। বেশ কঠিনই হয়ে পড়েছিল রান তাড়া। তবে নুরুল হাসান সোহান আর তানবীর হায়দার বিপদ কাটিয়েছেন মারকুটে খেলে। শেষ পর্যন্ত মিরপুরে মোহামেডানের বিপক্ষে ১ ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয়ই পেয়েছে শেখ জামাল।

আশরাফুল যে একদম খুব বাজে খেলেছেন, সেটাও বলা যাবে না। তার ইনিংসে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় শট ছিল। বাঁহাতি স্পিনার আসিফ হোসেনের বলে ইনসাইড আউট করে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা, পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশুকে দুটি আর আর রুয়েল মিয়াকে একবার কভার দিয়ে হাঁকানো বাউন্ডারি ফর্মের আশরাফুলের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

একদম কপিবুক কভার ড্রাইভ। মাটি কামড়ে ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে সীমানার ওপারে চলে গেছে। রেখে গেছে ব্যাটসম্যান আশরাফুলের জাত, মান। কিন্তু দিনশেষে খেলাটা টি-টোয়েন্টি। যতই সুন্দর শট খেলুন, বল খরচ করা যাবে না। আশরাফুল সেই ভুলটিই করেছেন। সুন্দর শট যেমন খেলেছেন, তেমন বলও নষ্ট করেছেন।

আশরাফুলের স্লথ ইনিংসটিই শেখ জামালকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। শুরুতে পাওয়ার প্লে‘তে স্বচ্ছন্দ্য-সাবলীল আশরাফুল সময় গড়ানোর সাথে সাথে ধীর হয়ে যান। মোহামেডান বাঁহাতি স্পিনার আসিফকে মেডেন ওভারও দেন (১০ নম্বর ওভারে)। পরে সেই আসিফের উইকেট সোজা ডেলিভারিতে অনসাইডে ঘোরাতে গিয়ে লেগবিফোর উইকেটের ফাঁদে জড়ান আশরাফুল।

আশরাফুলের স্লো ব্যাটিংয়ের কারণে ঢাকা পড়ে থাকে ইমরুল কায়েসের ২১ বলে করা ২৫ রানের সাবলীল ইনিংসটিও। শুভাগতহোমের বলে বোল্ড হবার আগের ওভারে এক্সট্রা কভার দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

শেষ ৬ ওভারে দরকার ৫০। যা পুরো ম্যাচে দুই দলের রান তোলার গতির চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান একদিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোয় সমস্যা হয়নি। সাথে অলরাউন্ডার তানবীর হায়দার সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা। এই জুটিই শেখ জামালকে ৭ উইকেটের জয় উপহার দিয়েছে।

শেষ দিকে যখন ওভারপিছু প্রায় নয়ের কাছাকাছি দরকার, ঠিক তখন জ্বলে উঠলো তানবীর হায়দারের ব্যাট। পর পর দুই ওভারে প্রথমে বাঁহাতি স্পিনার আসিফ আর পরে পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশুকে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরন সহজ করে ফেলেন এ লেগি কাম মিডল অর্ডার। তার পরও অব্যাহত ছিল তানবীরের ফ্রি স্ট্রোক প্লে।

কভার ও অফ সাইডে আরও ৩টি বাউন্ডারি হাঁকান তানবীর। মোহামেডান পেসার রুয়েল মিয়ার করা ১৯ নম্বর ওভারের শেষ দুই বলে প্রথমে এক্সট্রা কভার দিয়ে পরে সোজা ব্যাটে চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। তানবীরের ১৭ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসটিতে ভর করেই ৬ বল আগে জয় পায় শেখ জামাল।

সুপার লিগে উঠে প্রথম ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের জয়রথ থামানোর পর পরের খেলায় প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে পরাজিত শেখ জামাল আবার খুঁজে পেল জয়ের ঠিকানা। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৩১ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন।

হতচ্ছিরি ব্যাটিংয়ের পর কমজোরি ও নির্বিষ বোলিং করে বেসামাল মোহামেডান সুপার লিগে তৃতীয়বার হারের তেঁতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়লো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!