শারীরিক উপস্থিতিতে পরীক্ষা বন্ধের শঙ্কায় হতাশ শিক্ষার্থীরা

শারীরিক উপস্থিতিতে পরীক্ষা বন্ধের শঙ্কায় হতাশ শিক্ষার্থীরা

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নির্দেশনা অনুসারে বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ স্বতন্ত্রভাবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শারীরিক উপস্থিতিতে বিভিন্ন সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছিল।

এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎ করে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যাওয়ায় শারীরিক উপস্থিতিতে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত হওয়া চূড়ান্ত পর্বের (সেমিস্টার ফাইনাল) পরীক্ষা সশরীর নেওয়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার থেকে। দুপুর ২টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এদিন দুটি বিভাগের পরীক্ষা হয়। এর আগে ১৫ জুন থেকে অনলাইনে মিডটার্ম পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস জানান, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার হলগুলোতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আসন নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি পালনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি অসুস্থ বোধ করেন, তাহলে তার জন্য আইসোলেশন সেন্টারে (আলাদা কক্ষে) পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে করোনার কারণে স্থগিত হওয়া সব বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা এভাবে নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় পাল্টে যতে পারে সব পরিকল্পনা।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে শারীরিক উপস্থিতিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে অনলাইনে মিডটার্ম ও শারীরিক উপস্থিতিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

করোনার কারণে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদুল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভালোভাবেই পরীক্ষা হচ্ছিল। করোনা আবার বাড়ায় পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

করোনা সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মার্চ থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গত বছরের নভেম্বর থেকে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করে সশরীরে পরীক্ষা নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগ। গত ২০ জুন রবিবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় এই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ৭ম সেমিস্টারের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। পরীক্ষায় ৮১ শিক্ষার্থীর সবাই উপস্থিত ছিলেন।

ফার্সি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বখতিয়ার রাব্বী বলেন, আমাদের বিভাগ অনেক সাহায্য করেছে। আমরা চাচ্ছিলাম আমাদের পরীক্ষাটা দ্রুত হয়ে যাক। হল বন্ধ থাকলেও যাদের আর্থিক ও আবাসন সমস্যা ছিল, বিভাগ মেয়েদের প্রাধান্য দিয়ে সেগুলোর পূর্ণ সমাধান করেছে। কয়েকজন মেয়ে শিক্ষকদের বাসায় থাকছে।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন বলেন, ৮১ জন শিক্ষার্থীর সবাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। নরমাল সময়ে পরীক্ষা নিলেও তো দু-চারজন অনুপস্থিত থাকে। পরীক্ষার হল পরিদর্শনে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, কঠিন সময় থাকলেও শিক্ষার্থী ও বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শতভাগ উপস্থিতিতে ফার্সি বিভাগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষাও শারীরিক উপস্থিতিতে নেওয়া সম্ভব বলে জানায় ঢাবি সূত্র। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আবার পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিনিধি কাজী আল মাহমুদ তন্ময় জানান, গত ১৫ জুন মঙ্গলবার চবির একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে অসমাপ্ত এবং চলমান সকল পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। চবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২টি বিভাগের অসমাপ্ত সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন ৬টি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এই পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্ব পর্যন্ত। অসমাপ্ত পরীক্ষাগুলো ঈদুল আজহার ছুটি শেষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সেশনজটের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাগুলো আবারও স্থগিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!