ছয় মাসে ৭৬৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার

ছয় মাসে ৭৬৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে দেশে ৭৬৭ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে নির্যাতনের পর ২৪ জনকে হত্যা করা হয় এবং ৫ জন আত্মহত্যা করেন। এ সময়ে হত্যার শিকার হয়েছে ৩১৭ শিশু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও ‘ক্রসফায়ারথ বা ‘বন্দুকযুদ্ধথ মারা গেছে ৩২ জন ।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনটি ১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও আসকের নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ছয় মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১২০ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ও এর ভয়াবহতা বেড়েছে। এ সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৬৭ জন, যার মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হন ৬১১ এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৫৬ নারী। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ২৪ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৫ নারী। তারা জানায়, গত ছয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬৪ নারী, যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ নারী। এই সময়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৫০ নারী। যাদের মধ্যে স্বামী, স্বাামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ২১০ নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১২১ নারী। এদিকে গত ছয় মাসে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনকে উদ্বেজনক বলছে আসক। সংস্থার হিসেবে এ সময়ে ৩১৭ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৭২২ শিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার শিকার হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০৩৯ শিশু নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪২০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ‘ক্রসফায়ারেথ মোট ৩২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারথ/বন্দুকযুদ্ধ/গুলিবিনিময়/এনকাউন্টারে নিহত হন ২০ জন। এই ছয় মাসে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৪১ জন কয়েদী ও হাজতি মারা যান।

আসকের হিসেবে ছয় মাসে ২৬৩ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ১৪২ ঘটনায় ২৪ জন নিহত হন। এ ছাড়া ছয় মাসে গণপিটুনির ঘটনায় মারা গেছেন মোট ১৯ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!