হাট কাঁপাতে আসছেন শেরপুরের “বস”

হাট কাঁপাতে আসছেন শেরপুরের “বস”

৩০মণ ওজনের শেরপুরের বস । এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বসকে ব্যাপক যত্নে লালন-পালন করেছেন শেরপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কান্দাপাড়া মহল্লার কলেজ শিক্ষার্থী তাহমিদ ইশরাক অলিদ। ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিলো খামারে গরু পালন করতে। দেশে যখন করোনা নামক ভয়াবহ আকারে ধারণ করলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এ মূহুর্তে বাসায় বসে থেকে কি করবো এমনটা ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরবর্তী তার ছোটবেলার স্বপ্ন গরু পালন করবে। তাই সিদ্বান্ত ফাইনাল করলেন। শুরু করলেন গরু পালন। ৮ মাসের একটি গরু জেলার নকলা উপজেলার প্রাণী সম্পদ অফিস এর সহযোগিতায় ক্রয় করেন ১ লক্ষ ২০ টাকায়। পরে নিজ খামারে গরুটিকে পালন করেন প্রায় দেড় বছর। ওজন দাঁড়িয়েছে ৩০ মন। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে বসকে বিক্রি করে দেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অলিদ। কিন্তু করোনা মহামারির জন্য ঢাকার হাটে বসকে উঠাতে পারবে কিনা এনিয়ে খুবই চিন্তিত। তবে স্থানীয় ভাবে যে বেপারী রয়েছে বসকে এতো দামে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হয়েছে গরুটি। শখ করেই এটির নাম রেখেছেন বস। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বসকে বিক্রির ঘোষণা দেয়ায় উৎসুক ক্রেতারা তার বাড়িতেই ভিড় জমাচ্ছেন।

এব্যাপারে কলেজ শিক্ষার্থী তাহমিদ ইশরাক অলিদ জানান, আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো গরু পালন করবো। সেটি সফলতার সাথে করেছি। ৮মাসের একটি গরু পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলা হতে ক্রয় করেছিলাম দেড় বছর আগে। বসকে পালন করতে আমিসহ ৪/৫জন লোক সবসময় লেগেই থাকেন। পারমানেন্ট একটি লেবার রেখেছি তাকে প্রতিমাস ১২ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। এখন করোনা কালীন সময় আর্থিক ভাবে একটু সমস্যায় রয়েছি। ভাবছি বসকে হাটে তুলবো। ন্যায্য মূল্য পেলে বিক্রি করে দিবো। দেশের যে অবস্থা এর মাঝে বসকে বাজারে তুলতে পারবো কিনা এনিয়ে সংশয়ে আছি। বস এর পিছনে প্রতিদিন আমার অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ঢাকার বাজারে নিতে পারলে হয়তো কিছু দাম পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে খামারে এসে অনেকেই দরদাম করছে। সর্বচ্চ দাম বলা হয়েছিলো ৪লাখ ৫০ হাজার। আমি বস এর দাম চেয়েছিলাম ১০লাখ ৫০ হাজার। দামে মিল না হওয়ায় বিক্রি করিনি। বস এর ওজন এখন ১হাজার ২ শত কেজি। বসকে দেখতে আশপাশের গ্রামগন্জ থেকে অনেকেই আসছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা লিখন জানান, আমাদের এলাকায় বস নামে একটি গরু রয়েছে এটি আমাদের গর্বের বিষয়। আমার জানা সত্যে শেরপুর জেলায় বস এর মতো গরু আছে বলে মনে হয়না। ইতিমধ্যে বস বিভিন্ন জায়গা হতে পুরস্কারও পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমি গর্বিত। 
আব্দুল আলীম জানান, শেরপুর জেলার সবচেয়ে বড় আর দামি গরুটা এখন আমাদের কান্দাপাড়া মহল্লায়। খামারিকে ধন্যবাদ তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে এমন একটি গরু বসকে দেখার মতো করে তুলছেন। বসকে ঘিরে আমিসহ অনেকের ইচ্ছা জেগে উঠেছে গরু পালতে। 

সজবরখিলা মহল্লার আব্দুর রাজ্জাক জানান, জেলা প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী মেলায় বস এর নাম শুনেছি। সেখানে সার্বিক গঠনে প্রথম হয়েছে বস নামে গরুটি। সেখান থেকেই ইচ্ছা জেগেছে বসকে একনজর দেখবো। আজ দেখতে আসছি। আমার অনেক ভালো লেগেছে। সেইসাথে একটি খামারে কিভাবে এতবড় গরু পালন করা যায় আমার জানা ছিলোনা। খামারির সাথে কথা বলে জেনেছি তারা এ গরুটিকে পালন করতে অনেক টাকা খরচ করছেন। এখন তা বিক্রি করে দিবেন। এ পরিস্থিতিতে বাজারে তুলতে না পারলে এবং ভালো মূল্য না পেলে খামারিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

স্থানীয় পশু চিকিৎসক শাহিনুর রহমান পনির জানান, আমার চিকিৎসার বয়সে এমন গরু আর দেখিনি। এ গরুটির সার্বিক চিকিৎসা আমি করেছি। তার শারীরিক গঠনের সাথে নামটাও মিল রয়েছে। আমার বিশ্বাস খামারি যে বসকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন যদি ঢাকার বাজারে তুলতে পারেন তাহলে ভালো একটা দাম পাবেন। স্থানীয় বাজারে বসকে নেওয়ার মতো বড় কোন ক্রেতা নেই। তাই জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বসকে বিক্রি করতে পারলে ভালো একটা দাম পাওয়া যেতে পারে। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি সত্যবয়ানকে জানান, জেলা প্রশাসন ও প্রাণীসম্পদ এর যৌথ তৎপরতায় অনলাইন প্ল্যাটফরম করা হচ্ছে। সেখানে সুস্থ সবল গরুগুলি সে পেইজে আপলোড করা হচ্ছে গরু ও মালিকের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে। দেশের করোনা মহামারিতে হয়তো বাজারে উঠাতে সম্ভব হয়ে উঠবেনা তাই আমরা অনলাইন প্লাটফর্ম করেছি। আমরা আশা করছি খামারি ন্যায্য মূল্য পাবেন। সেইসাথে বসকে বিক্রির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত প্রাণীসম্পদ অফিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.