অর্ধেক দাম দুধের কেজি তবুও ক্রেতা শূণ্য|| কষ্টে দিনপাড় করছেন শেরপুরের খামারিরা

অর্ধেক দাম দুধের কেজি তবুও ক্রেতা শূণ্য|| কষ্টে দিনপাড় করছেন শেরপুরের খামারিরা

করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারিরা। ক্রেতা কমে যাওয়ায় দুধ বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি দরের চেয়ে বর্তমান বাজার অর্ধেকে নেমে আসছে। তবুও নেই ক্রেতা। এনিয়ে বিপাকে পড়ছেন শেরপুরের খামারিরা।
এদিকে অনেক বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে লাভের তুলনায় লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। শেরপুর শহরের কলেজ মোড় এলাকায় খামারিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বেলা দুইটার পর থেকে খামারিদের দেখা মিলে শহরের কলেজ মোড় হয়ে ডিসি গেইট, খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর মোড়, বাসস্ট্যান্ড মোড়, শেখহাটি মোড়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। শত শত খামারি দুধ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। এ অপেক্ষার শেষ কোথায়? যদিও দেখা মিলে দু একজন ক্রেতার কিন্তু উপস্থিত খামারিদের ক্রেতাদের ঘিরে দাম কষাকষি শুরু হয়। এতে করে দুধের বাজার মূল্যের চেয়েও অনেকটা কম দামে বিক্রি করে দেন তারা। গেলো মাসে যে দুধের বাজার ৬০/৭০ টাকা কেজি ছিলো আর সে বাজার কয়েক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে আসছে। এতে ক্ষতি গ্রস্তহচ্ছে খামারিরা। লকডাউনের কারনে দোকানপাট বন্ধ ও ঠিকমতো খাদ্যের গাড়ী আসতে না পারায় গরুর খাদ্যের দামও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুধের দাম কম হলেও খাদ্যের দাম দ্বিগুন। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিদিন।

এব্যাপারে খামারিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের অনেক হাট-বাজার, দোকান নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ কারণে নিয়মিত দুধের বাজার বসতে পারছে না। যেখানে আগে দুধের দাম পাওয়া যেতো ৬০-৭০ টাকা লিটার। সেখানে ৩০ টাকা লিটারেও দুধ বিক্রি করা যাচ্ছে না। খামারিদের দুধের মূল ক্রেতা স্থানীয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং মিষ্টির দোকান। বন্ধের কারণে তারা দোকান খুলতে পারছে না। ফলে দুধ খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু তাতেও ক্রেতা শূন্য দুধের বাজার।

এ অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুধের চাহিদা বাড়াতে মিষ্টির দোকানগুলো খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। খামারিরা জানান, মানুষের খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও বেড়েছে গো-খাদ্যের দাম। আগে যেখানে এ বস্তা ভুসির দাম ছিলো ১২০০টাকা। তা এখন ১৬০০ টাকা হয়েছে।

খামারিরা আরো বলেন, খামারের ৫থেকে শুরু করে ৪০/৫০ টি গরুর পেছনে প্রতিদিন যে পরিমান খরচ বহন করতে হয়। তার অর্ধেক টাকও আয় হচ্ছেনা। এতো দুধ করবো কী? দুধ নষ্ট হওয়ার ভয়ে জ্বাল দিয়ে ছানা করে রাখছি। কিন্তু এই গরমে ছানাও বেশিদিন থাকে না।

তারা আরো বলেন, শুধু দুধ বিক্রি বন্ধ তা নয়, হাট-বাজারও বন্ধ বলে গরুও বিক্রি করতে পারছি না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে খামারের খরচ জোগানো ও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!