কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হসপিটালের নার্স ক্যানুলা খুলতে গিয়ে নবজাতকের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ফেললেন-সত্যবয়ান

কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হসপিটালের নার্স ক্যানুলা খুলতে গিয়ে নবজাতকের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ফেললেন-সত্যবয়ান

সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হসপিটালে ক্যানুলা খুলতে গিয়ে নবজাতকের আঙ্গুল কেটে ফেলেছে সেখানে কর্মরত সেবিকা। শুক্রবার (৩০ জুলাই ২০২১) সকালে এঘটনা ঘটে। গত ২৭ জুলাই আদ্-দ্বীন হসপিটালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ওই নবজাতকের জন্ম দেন ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার বৃত্তিদেবী রাজনগর গ্রামের রফিকুল ইসলাম রানার স্ত্রী রিতু খাতুন। শুক্রবার ওই নবজাতকের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬ টার সময় নবজাতকের ক্যানুলা খুলতে যায় সিনিয়র নার্স মমতাজ পারভিন। সে ক্যানুলার টেপ কাটতে গিয়ে নবজাতকের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দেহ থেকে আলাদা করে ফেলে। পরে সেই বাচ্চাকে দ্রুত ঢাকা পাঠান আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।

নবজাতকের পিতা রফিকুল ইসলাম রানা জানান, আমার স্ত্রী রিতুর সিজারের জন্য গত ২৭ জুলাই ২১ তারিখে কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভতি করি। সেইদিন বিকাল সাড়ে ৫ টায় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। শিশু বাচ্চা কিছুটা অসুস্থ বলে সেইদিনই শিশু ওয়াডে ভর্তি করতে পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তখন শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করি পরের দিন মায়ের বেডে দিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার (৩০ জুলাই) রিলিজ করার কথা ছিল। ভোর ৬ টার সময় বাচ্চাকে শিশু ওয়াডে নিয়ে কাজের লোক এক মহিলা দিয়ে ক্যানুলা খুলার সময় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। প্রথম ১ ঘন্টা তারা বিষয়টি গোপন রাখে। পরে তাদের আচরণ দেখে আমার বোন বুঝে ফেলে।

আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বললে তিনি রিলিজ করে সদর হাসপাতালে দেয়ার চেষ্টা করেন। আমি বলি যত টাকার বিনিময়ে হোক ঢাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুরোধ করলে তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এরমধ্যে বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীরা চলে আসলে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ বেলা ১১ টার সময় আমার বাচ্চাকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করে। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করবো।

জানা যায়, ২০০২ সালে আদ্-দ্বীন থেকে ডিপ্লোমা কোর্স করেন মমতাজ পারভিন। এরপর থেকে সে আদ্-দ্বীন হসপিটালে সেবিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হসপিটালে তিনি ২০১৩ সাল থেকে সেবিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এব্যাপারে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে নার্স মমতাজ বলেন, আমি বেশ সতর্ক অবস্থায় শিশুটির ক্যানুলার টেপ খুলতে ছিলাম। কিন্তু কিভাবে যে এমন একটি ঘটনা ঘটলো, এ ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। এর পর থেকে একটি মুহুর্তের জন্যও স্বস্তি পাচ্ছি না। এ ঘটনার জন্য যে কোন শাস্তি পেতে তিনি রাজি আছেন। তবে হাসপাতালের যেনো কোন বদনাম না হয় কান্নারত অবস্থায় এমনটিই জানান তিনি।

আদ্-দ্বীন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মমতাজ পারভিনকে চাকুরিচ্যুত করেছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া আদ্-দ্বীন হসপিটালের ম্যানেজার রবিউল আউয়াল।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম এর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এবিষয় আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.