নকলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মুখে তৃপ্তির হাসি : প্রকল্প পরিদর্শন-সত্যবয়ান

নকলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মুখে তৃপ্তির হাসি : প্রকল্প পরিদর্শন-সত্যবয়ান

রেজাউল হাসান সাফিত নকলা,প্রতিনিধি:আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় শেরপুরের নকলা উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে এমনকি এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে উপজেলায় দুই ধাপে ১০০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫৮টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৪২ টি ঘর নির্মান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে উপকারভোগীদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠেছে। আজ তারা পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে দিনাতিপাত করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জেলা-উপজেলায় নির্মিত এবং নির্মাণাধীন বাড়িগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান, অনুমোদিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক করোনা মহামারির কঠোর ‘বিধি-নিষেধ’ এর মধ্যেও দেশব্যাপী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পরিদর্শনে নামছে পরিদর্শনকারী টিম। এর অংশ হিসেবে নকলায় বাস্তবায়ন করা এসকল প্রকল্পের ঘর বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুকতাদিরুল আহমেদ। পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম দুই কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ঘরে বারান্দা, টয়লেট ও রান্নাঘরসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি রয়েছে। প্রথম ধাপের প্রতিটি ঘর নির্মাণের প্রকল্পিক ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে; আর দ্বিতীয় ধাপের প্রতিটি ঘর নির্মাণের প্রকল্পিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। সারা দেশের প্রতিটি ঘর একই নকশায় তৈরী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় মানবিক প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। এজন্যই করোনা মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এ প্রকল্প পরিদর্শনে নেমেছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, নকলা উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৩৩৫ টি “ক” শ্রেণির পরিবার প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করে তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২টি ধাপে ১০০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩৫ টি ঘরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে বাকি কাজগুলো করা হবে বলে জানান ইউএনও জাহিদুর রহমান। তিনি আরও জানান, করোনায় লকডাউনের কারনে এ প্রকল্পের যেসকল অসহায় পরিবারে খাবার নেই সেসকল প্রতিটি পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অবহেলা ও অর্থ আত্মসাতকারীদের ব্যাপারে শুরু থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের যেসব জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে, সেসব জায়গায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব বাড়ি নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি সেসব বাড়ি সংস্কার অথবা পুনর্নিমাণে যা যা প্রয়োজন সব কিছু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে সবার আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৈথিল্যের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হচ্ছে না। অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এবিষয়ে কাউকেই বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!