কুমারখালীর লালন আবাসনের বেহাল দশা : ভালো নেই অধিবাসীরা

কুমারখালীর লালন আবাসনের বেহাল দশা : ভালো নেই অধিবাসীরা

সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া:ভালো নেই কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আবাসন প্রকল্পের অধিবাসীরা। নির্মাণের একযুগ পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ঘরই এখন বসবাসের অযোগ্য। এসব ঘরের টিনের চালা মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। টিন গুলো ছিদ্র, দেখা যায় আকাশ। আর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় ঘরের সবকিছু। কনকনে শীতে ভাঙা বেড়া দিয়ে হু হু করে প্রবেশ করে বাতাস। এছাড়া আবাসনের বেশির ভাগ টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

জেলার কুমারখালীতে ২০০৭ সালে নির্মিত লালন আবাসন-১ ও ২, পৌর আবাসন, নন্দলালপুর আবাসন মিলে ৪টি আবাসন তৈরি করা হয়। লালন আবাসনে ৬০টি, পৌর আবাসনে ৬০টি, নন্দলালপুর আবাসনে ৬০টি মোটা- ১৮০ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। বসবাসের উপযোগী না থাকায় আবাসন ঘরে বর্তমানে বসবাস করছে মাত্র ৪০টি পরিবার। ঘরগুলো ভেঙ্গে পড়েছে, নেই যাতায়াতের ব্যবস্থা। আবাসনের চার পাশে জঙ্গল। বহিরাগতদের আনাগোনায় আবাসনে থাকা পরিবারগুলো সন্ধ্যার পর থাকে ভয়ে।

এর মধ্যে যদুবয়রা আবাসন-১ নদীর ভাঙ্গনে ভেঙে গেছে ৫ বছর প’র্বেই। এদিকে পানি অভাবে বাসিন্দারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রবি হোসেন (৪০) তিনি বলেন, বৃষ্টির দিনে মাঠের চেয়ে আমার ঘরে পানি বেশি ওঠে। পলিথিন টাঙিয়েও বৃষ্টি ঠেকানো যায় না। মুদি দোকানি শরিফুল ইসলাম (৪৫) ৩ নম্বর ব্যারাকের ২০-৫ নম্বর ঘরে পবিবার নিয়ে বসবাস করেন। তিনি বলেন, ঘর প্রতি তিন বান টিনের প্রয়োজন। এখানকার চা বিক্রেতা নার্গিস (৪০) ২০-৫ নম্বর ঘরে থাকেন। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে চালার টিন বদল করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে যত জায়গা থেকে পানি পড়বে সেই পানি ধরার জন্য ততটি হাড়ি পাতিলও ঘরে নেই।২১-৫ নম্বর ঘরে থাকেন নুপুর বেগম। তিনি শহর থেকে শাড়ি-কাপর কিনে এনে আবাসনে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে সংসার চালান। তার ঘড়ের চালা দিয়ে আকাশ দেখা যায়। তিনি বলেন, গত বর্ষায় অন্য জায়গা গিয়ে থেকেছি। টিনের যে অবস্থা, তার চেয়ে ঘরের বেড়ার অবস্থা আরও খারাপ। যখন তখন ঘরের ভেতর সাপ ঢুকে পড়ে।

বাসিন্দাদের দুর্দশা নিয়ে আবাসন প্রকল্প-২ এর সভাপতি ওহাব (৫০) বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় আবাসনের এসব সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেননি। অনেক সময় বিভিন্ন কর্মকর্তা এখানে পরিদর্শনে এসে সংস্কারের কথা বলে চলে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!