শ্রীবরদীতে লকডাউন চলাকালে বিজিবি পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া- আহত ৪

শ্রীবরদীতে লকডাউন চলাকালে বিজিবি পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া- আহত ৪

স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলাতে লকডাউন চলাকালে ৪ আগস্ট বুধবার দুপুরে উপজেলার ঝগড়ারচর বাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ব্যবসায়ী লিটন মিয়া (৩৮) কর্তৃক উশৃঙ্খল আচরণে ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত এবং আহতের ঘটনায় এলাকাবাসীর হামলায় বিজিবির ২ ও পুলিশের ২ সদস্য আহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহতরা হলেন- বিজিবি, ৩৯ ব্যাটালিয়ন ময়মনসিংহের সদস্য মো. রুবেল খন্দকার (৩৫) ও মো. সবুজ (২০) এবং শ্রীবরদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আজহারুল হক (৩৬) ও কনস্টেবল মো. জান্নাত (২৫)। তাঁরা শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত ব্যবসায়ী লিটন মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের বারারচর নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চলমান লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন ও সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. লিটন মিয়ার সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য লিটনকে লাঞ্ছিত করেন। এতে লিটন আহত হন।
লিটনের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে তাঁর দোকান বন্ধ ছিল। তিনি দোকানের সামনে মাস্ক বিক্রি করছিলেন। এ সময় বিনা কারণে বিজিবি সদস্য তাঁকে লাঞ্ছিত করেন।
এদিকে লিটনকে লাঞ্ছিত করার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ইটপাটকেলের আঘাতে বিজিবি সদস্য রুবেল খন্দকার ও মো. সবুজ এবং শ্রীবরদী থানার এএসআই আজহারুল হক ও কনস্টেবল মো. জান্নাত আহত হন।
ঝগড়ারচর বাজার বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমাছ আলী বলেন, কাপড় ব্যবসায়ী লিটনকে লাঞ্ছিত করার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীবরদীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিলুফা আক্তার বুধবার বিকেলে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। বরং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সহনশীল মনোভাব প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!