পোড়াবাড়ী যাতায়াতে নৌকায় ভরসা নেই কোন ঘাট-সত্যবয়ান

পোড়াবাড়ী যাতায়াতে নৌকায় ভরসা নেই কোন ঘাট-সত্যবয়ান

আবু তোরাব,ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি:নৌকা ছাড়া আসা-যাওয়ার খরচ ৫০ থেকে ৭০ টাকা। রাস্তাও তেমন একটা ভাল নয়। আর রাস্তা ছাড়া নৌকায় চলাচল করতে খরচ হয় ২০ টাকা । তাই যাতায়াতে আমাদের প্রধান ভরসা নৌকা ।
নিজেদের যাতায়াতের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন ত্রিশাল উপজেলা মঠবাড়ী ইউনিয়নের কুরুগাছা এলাকার এক লোক মানিক মিয়া । মঠবাড়ি ইউনিয়ন এর সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী বাজার হল পোড়াবাড়ী বাজার । বাজারেই আশপাশের গ্রামের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সব কেনা বেচা সম্পন্ন করেন ।
বাজারটির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নদী ।
নদীর উপর স্থাপিত লোহার বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী নৌকায় আসা-যাওয়া করে এ অস্থায়ী ঘাট দিয়ে । পোড়াবাড়ি থেকে ২/৩ কিলোমিটারের পথ কুড়াগাছা গ্রামের হাজারেরও বেশি লোকের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এসব নৌকা । গ্রামবাসীসহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে এই পথে ।

নৌকায় নিয়মিত যাতায়াত করা ইসরাত জাহান নামের নারী সত্য বয়ান কে বলেন, আমাদের দৈনন্দিন কাজে বাজারে আসতে হলে বা কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে এই পথেই সহজ ও নিরাপদ । তবে আমাদের নৌকায় ওঠা-নামার পথটি যথেষ্ট নিরাপদ নয় ।
বিশেষ করে বর্ষাকালে এই পথ বেয়ে ওঠা নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে । নৌকায় যাতায়াত করা অনেক যাত্রী মফিজ মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের লোকজনের সড়কপথে যোগাযোগ খুব ভালো নয়। তাই নৌকাতেই চলাচল করে সবাই । এখান থেকেই এই এলাকার লোকজন নৌকা ভ্রমণে বের হয়। দিন ব্যাপী নৌকা ভ্রমণে নির্দিষ্ট বাড়াই সারা দিন আনন্দ করে ।

প্রসঙ্গত, ত্রিশাল উপজেলার মানুষের নৌকা ভ্রমণের জন্য এই পথটি উপভোগ্য ও নিরাপদ । বর্ষা মৌসুমী ভ্রমণ প্রিয় মানুষ বেরিয়ে পড়ে নৌকা ভ্রমণে । প্রতিদিনই কোন না কোন নৌকা সারা দিনের জন্য বাড়াই চলে এ পথে। আনন্দ উদযাপনে সঙ্গে থাকে গান-বাজনার আয়োজন। আবার মুখরোচক খাবারের আয়োজন থাকে সঙ্গে। নদী পথে গানে গানে এই আয়োজন এই এলাকার মানুষের বাৎসরিক উৎসবে পরিণত হয়। মো: তূলনা মিয়া নামে নৌকার এক মাঝি বলেন আমি নৌকা চালিয়ে সারা দিনে যে টাকা পাই তা দিয়েই আমার সংসার চলে ।এটা আমাদের পারিবারিক পেশা।

স্থানীয় মঠবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল সত্য বয়ান কে বলেন, লোকজন যে জায়গা থেকে নৌকায় উঠে সেটি সরকারি নয় ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গা । তাই সেখানে নৌকায় যাত্রীদের ওঠা-নামা সহজ ও নিরাপদ করার কোনো সুযোগ নেই তবে জমিটি সরকারি মালিকানায় নিয়ে বা ঘাট স্থানান্তর করে পাকা করা যায় কিনা সে চেষ্টা করব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!