প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত-সত্যবয়ান

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত-সত্যবয়ান

আবু তোরাব ত্রিশালে(ময়মনসিংহ):ময়মনসিংহের, ত্রিশালে বালিপাড়া ইউনিয়নে লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার ভোরে খেলাটি শুরু হয়ে বুধবার শেষ হয়।
বালিপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে আমিয়ান ডাঙ্গরী লালুর মোর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন খেলাটি স্থানীয় লাঠি খেলার প্রবীণ উস্তাদ আলী হোসেনের পরিচালনায় টিম ম্যানেজার উস্তাদ সিরাজুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নছর উদ্দিন।

খেলা দেখতে মানুষ হেঁটে, আবার কেউবা ভ্যানে করে, কেউবা মোটরসাইকেল আবার কেউ সিএনজি, অটোরিক্সা করে আমিয়ান ডাঙ্গরী এলাকায় ভিড় করতে শুরু করেন তাদের প্রিয় খেলাটি দেখতে।
ভোর সকালে লাল সূর্য উঁকি মাড়লেই গ্রাম বাংলার ডোলের আওয়াজ শুরু হতে থাকে। শিশু,কিষাণ,কিষাণী যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ বয়সের মানুষেরা ছুটে এই খেলা দেখতে।

বাদ্যের তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে লাঠিয়ালরা। তারপরই চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। এসব দৃশ্য দেখে আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ যোগায় খেলোয়াড়দের।

সমাজ থেকে অন্যায় অপরাধ দুর করতে হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন, এই অনুষ্ঠানের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও আয়োজকবৃন্দু। কালের ক্রমে হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করে নানা বয়সের মানুষ। গ্রামীন এ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে টিকিয়ে রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এমনটাই মনে করেন দর্শনার্থীরা।

এই খেলার টিম পরিচালক মোহাম্মদ আলী তিনি জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা ৪০বছর যাবৎ নতুন লোকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে খেলোয়ার তৈরী করে , প্রতি বছর আমাদের এলাকা খেলা উপস্থাপন করে থাকি। অর্থের অভাবে উন্নত ভাবে খেলা শিক্ষা দিতে পাচ্ছি না। আগামী দিন গুলোতে সরকারি সহযোগীতা না থাকলে এক সময় এই খেলাটি হারিয়ে যাবে।

খেলায় উপস্থিত থাকা ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ আবুল হোসেন খেলা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আমরা সেই ছোট কাল থেকেই এই খেলাটি দেখে আসছি। প্রতি বছর আমাদের গ্রামে এই খেলাটি হয়ে থাকে এতে আমরা অনেক আনন্দ পাই।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অবধি চলা লাঠিখেলায় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লাঠিয়াল বাহিনী অংশ গ্রহন করেন। পরে বুধবার স্থানীয় বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদলের নিজ বাড়িতে খেলার সমাপ্তি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.