শেরপুরে ভূয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বানানো ও প্রতারক দুই ছেলের বিচার দাবি করে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরে ভূয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বানানো ও প্রতারক দুই ছেলের বিচার দাবি করে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন

বুলবুল আহম্মেদ||শেরপুরে মুক্তিযোদ্ধাকালে নিহত আইজউদ্দিন মোল্লাকে ভূয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বানানো ও তার ছেলে আজিজুর ও মুস্তাফিজুর রহমানের অপকর্মের বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।
২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১১ টায় টাউনহল জেলা মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামারিয়া ইউনিয়নে’র সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মতিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় প্রকৃত ইতিহাসের পাশাপাশি কিছু অসাধু লোক মিথ্যা ও ভূয়া তথ্য উপস্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে। একই সাথে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ও সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একটি প্রতারক চক্র। যা জাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া বানিয়াপাড়া গ্রামে ১৯৭১ সালে ২৪ শে নভেম্বর নিরিহ আইজউদ্দিন মোল্লা সূর্যর্দীতে গণহত্যা চলাকালে এলাকা হতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আঁখ ক্ষেতের ভিতরে পাক হানাদার বাহিনীরা তাকে মেরে ফেলেন। তিনি মারা গেলেও তার চার সন্তান রেখে যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান পুলিশ বিভাগে কর্মরত ও বড় ছেলে প্রজন্ম ৭১ (একাত্তর) নামে একটি সংগঠন’র সভাপতি। তারা উভয়ই এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের পিতা মৃত আইজউদ্দিন মোল্লা’র নামে ভূয়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে আসছে। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তি পরিচয় দিয়ে নামে বেনামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ লোট করছেন। শুধু তাই নয় তারা দুজনই শেখ হাসিনার একান্ত লোক পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকদের চাকরি, প্রমশন, বদলী বিদেশে পাঠানোর নাম করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।যা মুক্তিযোদ্ধের নাম বিকৃতি করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কলঙ্কিত করেছেন। এমন প্রতারনা ও অপকর্মের বিচার দাবি করেন তারা। প্রকৃত পক্ষে তারা কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়।

এ ঘটনায় জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি মুঠোফোনে সংযুক্ত হয়ে জানান,আইজউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আঁখ খেতে গিয়েছিলেন। তখন সূর্যদীতে পাক হানাদার বাহিনী ঢুকে এলোপাথারী গুলি শুরু করলে সেই গুলিতে নিহত হন আইজউদ্দিন। পরে তার ছেলেরা ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তাকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছে। এতে সেদিন যারা প্রকৃতই যুদ্ধ করেছিল, তারা বিব্রত হচ্ছেন।

এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু,
আ. মতিন, তালেব মিয়া, চাঁন মিয়া, খলিলুর রহমান, আ.হেকিম, মমতাজ উদ্দিন, আ.সাত্তার, ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!