চলে গেলেন প্রকৌশলী মনোরঞ্জন দে-সত্যবয়ান

চলে গেলেন প্রকৌশলী মনোরঞ্জন দে-সত্যবয়ান

শেরপুর প্রতিনিধি :বিএডিসি’র অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী, শেরপুর শহরের পুরাতন গরুহাটি শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা প্রকেশৈলী মনোরঞ্জন দে (৭৮) আর নেই। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হৃদরোগের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ২৯ আগস্ট রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরলোকগমন করেছেন। তিঁনি স্ত্রী, এক ছেলে এবং আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক কন্যা সহ ৩ কন্যা রেখে গেছেন। তিঁনি ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সঞ্জিতা হোড় দিপু ও বিটিভি-বেতারের তালিকাভুক্ত সঙ্গীত শিল্পী তৃপ্তি কর-এর চাচা। রাতেই শহরের পৌর শেরী মহাশ্মশানে তঁার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
মনোরঞ্জন দে একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের মেঘালয়ে শরনার্থী হিসেবে অবস্থানকালে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে শেরপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, স্থাপনার ম্যাপ তৈরীর কাজে সহায়তা করেছিলেন। শেরপুর অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ভাষাসংগ্রামী এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সাথে ছিলো তাঁর গভীর সখ্যতা। সরকারি চাকুরী থেকে অবসর নিলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রমা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে আমৃত্যু সম্পুক্ত ছিলেন। বন্ধুবৎসল, অত্যন্ত উদ্যমী, কর্মঠ এই মানুষটি সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্যদের কোষাধ্যক্ষ, মুক্তিযুদ্ধ যাদঘুর ও শহীদ গোলাম মোস্তফা পাঠাগার, একাত্তুরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণ সংস্কৃতি সংসদ, উদীচী সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তঁার মৃত্যুতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালন পর্ষদ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.