নতুন প্রজন্মকে যুদ্ধে পাঠাব না-সত্যবয়ান

নতুন প্রজন্মকে যুদ্ধে পাঠাব না-সত্যবয়ান

সত্যবয়ান ডেস্ক||গত ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে শেষ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে আমেরিকার ২ বছরের আফগান যুদ্ধের অবসান ঘটে। এরপরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৩১ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। আফগান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে বলে তিনি তার বক্তৃতায় ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য, পরবর্তী প্রজন্মকে যুদ্ধে পাঠাতে চান না তিনি। মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আফগানিস্তানে যুদ্ধ এবার শেষ হয়েছে। আমি মনে করি এটা একদম সঠিক ও সেরা সিদ্ধান্ত। আমি চতুর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে কি না এই বিষয়টির সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে। কীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাকে। আমি আমেরিকাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এই যুদ্ধ আমি শেষ করব। আমি সেই প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানিয়েছি। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের আর যুদ্ধে পাঠাতে চাই না আমি। অন্য দেশগুলোকে নতুন করে গড়ার চেষ্টায় সেনা অভিযানের যুগ শেষ হল।

সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সময়সীমা নিয়ে বাইডেন বলেন, ‘সেনা প্রত্যাহার করার এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায়িত্বভার আমি নিচ্ছি। অনেকেই বলছেন, আমাদের এই কাজটা আগেই শুরু করা উচিত ছিল। আমি সম্মানের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। এটা যদি আগে করা হত তাহলে তাড়াহুড়ো হয়ে যেত বা বিষয়টি গৃহযুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত।থ তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবেই আমি এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিতে পারছি না। বিগত দুই দশকে ৮ লাখ মার্কিন নাগরিক আফগানিস্তানে থেকেছেন। মোট ২০ লাখ ৭৪৪ জন মানুষ এই সময়কালে আহত হয়েছেন। ২ হাজার ৪৬১ জন সেনা সদস্য মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত সপ্তাহেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আফগানিস্তানে আরও একটা দশক যুদ্ধ হোক, এতে আমি আর রাজি নই।

বাইডেন বলেন, যারা আমেরিকার ও তার মিত্রদের ক্ষতি করতে চায়, তাদের জন্য বার্তা হলো—আমেরিকা কখনো বিশ্রাম নেবে না। আমেরিকা কখনো ভুলে যাবে না। কখনো ক্ষমা করবে না। ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখা (আইএস-কে) মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, সময় বদলে গেছে। এখন মাটিতে পা না রেখেও দিগন্তজুড়ে বিরাজমান শক্তি ব্যবহার করে শত্রুদের মোকাবিলা করতে সক্ষম আমেরিকা। আইএস-কেথর নাম উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাইডেন বলেন, তাদের সঙ্গে আমেরিকার বোঝাপড়া এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের শত্রুদের হুঁশিয়ার করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘আমরা শেষ সীমানা পর্যন্ত তাড়া করব। আমেরিকার জন্য যারা হুমকি, তাদের প্রকৃত মূল্য দিতে হবে।থ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়া বিভিন্নভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে বলে বাইডেন তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাইবার হামলার মতো হুমকি এখন আমেরিকাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন বাইডেন।

বাইডেনের প্রতিশ্রুতি মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোনোর আগেই আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গিয়েছে আমেরিকার সেনা। এত কম সময়ের মধ্যে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ও বৃহত্তম উদ্ধার অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীর ঢালাও প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য, এত কম সময়ের মধ্যে প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজার আমেরিকান নাগরিককে উদ্ধার করে আনা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত নিদর্শন দেখিয়েছে আমেরিকান বাহিনী।

সেনার প্রশংসা শোনা গিয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষাসচিব লয়েড অস্টিনের গলাতেও। তিনিও বলেছেন, ‘অন্য কোনও দেশের সেনাবাহিনীর পক্ষে এত কম সময়ে এই কাজ করা সম্ভব ছিল না। আমার চার দশকের কর্মজীবনে এই সময়ের মধ্যে এত বিরাট মাপের উদ্ধার অভিযান আমি দেখিনি।থ তালিবানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আমেরিকান বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের পরেই তিনি বলেছেন, ‘সরকারের স্বীকৃতি পেতে গেলে সেটা তালিবান নেতৃত্বকে অর্জন করতে হবে। নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। গোটা বিশ্বকে দেখাতে হবে যে, আফগানিস্তানে মেয়েদের বা সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে না।

ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, সামরিক মিশন শেষে আপাতত আফগানিস্তান থেকে সব রকমের কূটনৈতিক মিশনও সরিয়ে নিচ্ছেন তারা। পরিবর্তে কাতারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁদের কূটনৈতিক মিশন। মোটামুটি ভাবে দেশের বেশির ভাগ নাগরিককে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও সে দেশে দুথশোর একটু কম সংখ্যক আমেরিকান রয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্লিঙ্কেন। তারা দেশে ফিরতে চাইলে তাঁদেরও ফেরানো হবে বলে জানিয়ে রেখেছেন ব্লিঙ্কেন। সূত্র : ডন, নিউইয়র্ক টাইমস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.