প্রতিবন্ধী সহোদর দুই ভাই মানবেতর  জীবন-সত্যবয়ান

প্রতিবন্ধী সহোদর দুই ভাই মানবেতর জীবন-সত্যবয়ান

আবু তোরাব,ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি :হেলাল উদ্দিন ও শরিফা খাতুনের চার সন্তান নিয়ে অভাব-অনটনে সংসার। জনি মিয়ার বয়স ১৯ বছর আর রনি মিয়ার বয়স ১৮ বছর। তারা দুই জনে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এখন তাদের মুখে তুলে দিতে হয় খাবার, করে দিতে হয় গোসল । রোগের জটিলতায় মাত্র সাত আট বছর বয়সে তাদের চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘ 10 বছর যাবত এভাবেই দিন কাটাছে।
এ দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা ও তাদের ভরণ-পোষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এখন নিঃস্ব তাদের মা-বাবা। বর্তমানে টাকার অভাবে তাদের চিকিৎসা হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী বাতা পেলেও বাড়তি সুবিধার জন্য স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান, মেম্বার কাছে ঝরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি ।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা হরিরামপুর ইউনিয়ন মাগুরজোড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন বাড়ি । হেলাল উদ্দিন দুই সন্তান প্রতিবন্ধী । জন্মের সাত আট বছর যাব তাদের দুই ভাইয়ের কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়। দুই কিডনি রক হাড়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয় তারা । দুই প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সহায়সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে হেলাল উদ্দিন । বাকি রয়েছে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুই ।
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিছু দিন চিকিৎসা করলেও এখন টাকার অভাবে তা বন্ধ রয়েছে ।

হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের এই দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সুস্থ হওয়ার আশায় শুরু থেকেই চিকিৎসা করাচ্ছিলাম । ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ও সাভারের সিআরপি হাসপাতালেও ভর্তি ছিল কিছুদিন । কিন্তু টাকার অভাবে বাড়িতে আনতে বাধ্য হই । তাদের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার পাঁচশত টাকা ঔষধ লাগে । ঘরের জায়গা ছাড়া সব জমি বিক্রি করে দিয়েছি । এখন ঠিকমতো খাওয়াতেও পারি না, ওষুধের টাকা জোগাড় করবো কোথায় থেকে ?দুই ছেলের সেবা-যত্ন করে সারা দিন কাটে। ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না । হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য নাই । প্রতিবন্ধী ভাতা পায় জনি ও রনি। তা দিয়ে হয় না তাদের চিকিৎসা ও খাওয়া । তাই বাড়তি কিছু সুযোগ সুবিধা পেতে বার বার চেয়ারম্যানের ও মেম্বারদের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান হেলাল উদ্দিন ।

স্থানীয় হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বলেন, তারা দুজনেই প্রতিবন্ধী ভাতা পায় । তাদের অসহায়ত্বের কথা আমিও জানি। পরবর্তী সময়ে 10 টাকা কেজি চাল এর সুবিধা সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করব ।
স্ত্রী, এক মেয়ে ও তিন ছেলেকে নিয়েই ছিল হেলাল উদ্দিনের পরিবার । পেশায় ছিলেন শ্রমিক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তি। টাকার অভাবে বাকি দুই ছেলে মেয়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়েছে । মানুষের সহযোগিতায় কোন রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করছেন তারা । হেলাল উদ্দিন তার দুই প্রতিবন্ধী ছেলের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!