শেরপুরে হিজড়াদের মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সত্যবয়ান

শেরপুরে হিজড়াদের মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সত্যবয়ান

স্টাফ রিপোর্টার:শেরপুর জেলার ৫২ জন হিজড়া এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াতো। তাদের ছিলোনা কোন ঠিকানা। জেলা প্রশাসন তাদের জন্য সদর উপজেলার কামারিয়ার আন্ধারিয়ায় গুচ্ছ গ্রাম করে সেখানে ৪০জনকে করে দিয়েছেন আবাসনের ব্যবস্থা। সেই সাথে নানা ভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করাসহ স্বাবলম্বী করে তুলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিজড়া জনগোষ্ঠিরা এখন নতুন জীবন শুরু করেছে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছেন। একই সাথে তাদের আলাদা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকেও তুলে আনার চেষ্টা করছেন।

এ উপলক্ষে ৪ সেপ্টেম্বর গুচ্ছগ্রাম মাঠে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহাজামান শাপলা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বন্দে আলী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কামড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী চান, শেরপুর জেলা জনউদ্যোগের আহ্বায়ক, মো: আবুল কালাম আজাদ, জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকর। বিশেষ আমন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের সহধর্মিনী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া।

অনুষ্ঠানে এখানে একটি ৪৩ ইঞ্চি টিভি ও সাংস্কৃতিক সরাঞ্জাম হিজরাদের হাতে তুলে দেন। এছাড়া গরু ছাগল, হাস মুরগি ক্রয়করার জন্যও দুই লক্ষাধিক টাকা প্রদান করা হয়। আরো ৫ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করার ঘোষনা দেয়া হয়। এতে খুশি হিজড়ারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ঘোষনা দেন, গুচ্ছগ্রামে বসবাসরতদের আগামী ৬ মাস খাদ্য সহায়তা দিবে। দেয়া হচ্ছে গরু, ছাগল, হাস মুরগী ও শেলাই মেশিন। এজন্য তাদেরকে প্রশিক্ষন প্রদানসহ আয়বর্ধক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য স্বল্পসুদে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করার প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে। একই সাথে তাদেরকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকর বলেন, আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। আমরা সবার অব্যহত সহযোগিতা চাই। আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডও মানুষের সামনে তুলে ধরতে পেরে আনন্দিত।

শেরপুর জেলা জনউদ্যোগের আহ্বায়ক, মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, হিজড়াদের জীবন মান উন্নত করার জন্য তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে জনগনের সামনে তুলে ধরতে পারলে সেখান থেকেও আয় হতে পারে।

এখানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হিজড়া নমিতা গান গেয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলে। আর নাচ ও গানে মেতে উঠে এখানকার হাজারো জনগন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!