শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিবে হবে-শিক্ষামন্ত্রী-সত্যবয়ান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিবে হবে-শিক্ষামন্ত্রী-সত্যবয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কুসংস্কার ভাঙ্গতে সব ক্ষেত্রে সচেতনা তৈরি করতে হবে। না হলে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না। “মনের বন্ধুচ্ আয়োজিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা বলেন।

৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রথম (অনলাইন) আন্তর্জাতিক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলার পর পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিবে হবে। প্রায় দেড় বছর পর স্কুল খুলছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরার জন্য তাদের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতিটা মানসিক ভাবে নিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মানসিক ভাবে তাদের সব কিছু্র সাথে মানিয়ে নেওয়া সমস্যা হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচীর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন নিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মানসিক অবস্থা ভালো না থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারবে না। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর রাখার বিষয় চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য মনের বন্ধুর সঙ্গে কাজ করা আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

“মাইন্ড দ্য গ্যাপ: সমসাময়িক মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়াবলী চ্ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের দেশে কখনেই খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এ বিষয়টা মানুষকে সুস্থ্য ও ভালো রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখজনক হলেও সত্যি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের দেশে সেভাবে কাজ করাও হচ্ছে না। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হলে ভয়ে এটা নিয়ে কারো সাথে শেয়ার করে না। সবাই এটা সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখে। এমনকি পরিবারের সমস্যরা মানসিক সমস্যাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি অন্য শারীরিক সমস্যার মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে অবহেলা করা উচিত না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভার্চুয়ালি বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সারা বিশ্বব্যাপী সমস্যার নাম। সারাবিশ্ব অনেক মানুষ আজ মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারির কারণে মানসিক সমস্যা আরও অতিমাত্রায় দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ কারণে একটি মাসকে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করার ঘোষণা করেছে। মার্কিন সরকার এ সমস্যাকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার তার বক্তব্যে জানান, করোনার সময় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের আমেরিকান সেন্টারগুলোতে ভার্চুয়ালি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করেছে। যা বাংলাদেশের মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দিন ধরে মার্কিন সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক দিন থেকেই কাজ করছি আমরা। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ খুলছে। প্রায় দেড় বছর পর স্কুলে খোলার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে হবে সবাই মিলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথের (এনআইএমএইচ) সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু মনোবিজ্ঞানী ডা. হেলার উদ্দিন আহমেদ, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন বিভাগের গ্লোবাল হেলথের প্রফেসর বিক্রম প্যাটেল, ইউএনডিপি রিজনাল হাব ইন ব্যাংককের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট, সিভিল সোসাইটি অ্যান্ড ইউথ গভারন্সে অ্যান্ড পিসিবিউটিং টিমের বেনিয়াম গেবরেজগি ও মনের বন্ধুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান তৌহিদা শিরোপা।

দুই দিনের আয়োজন অন্যন্য সেশনে বক্তব্য করেন ইউএনডিপি ইয়ুথ:কোল্যাবের যুব সমাজ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী শাসন ও শান্তি নির্মাণ দল, ব্যাংকক আঞ্চলিক হাব সেজ ওয়াই চুইং, ক্যালিফোর্নিয়ার সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সাদিয়া আফরোজ, মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাডভোকেট ও অভিনেতা ইরেশ যাকের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন মেহেজাবিন হকসহ অনেকে।

মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দুই দিনের একটি আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে সম্পর্কে মনের বন্ধুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান তৌহিদা শিরোপা জানান, আয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার গুরুত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে, সম্মেলনটিতে আজ পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন এবং বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হবে, একইসাথে তত্ত্ব, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার প্রমাণ সহ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমসাময়িক এবং উদীয়মান বিষয়ের উপর বিশ্বব্যাপী গৃহীত পদক্ষেপ বা নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কোভিড -১৯ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!