আমরা সবাই মানুষ তবে……সত্যবয়ান

আমরা সবাই মানুষ তবে……সত্যবয়ান

পৃথিবী নানা রকমের মানুষে পরিপূর্ণ। প্রত্যেক মানুষই আলাদা প্রকৃতির। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর চেহারা দেখতে অনেকটা একরকম হলেও, সবাই কিন্তু একরকম নয়। প্রতিটি মানুষের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, আচার, আচরণ, লক্ষ্য, কথা বলার ধরন ইত্যাদি সবই ভিন্ন প্রকৃতির। তাই প্রতিটি মানুষের স্বভাব এবং তার আচার-আচরণ অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে হবে। সকলকে একই রকম চিন্তা করা ঠিক না। তাই মানুষকে চেনার জন্য তাকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মেপে দেখতে হবে সে কোন ধরণের। মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক সমস্যা হয়। কাজ করতেও অসুবিধা হয়। যেকোন মানুষ সম্পর্কে জানা বা মূল্যায়ন করা কার্য ক্ষেত্রে জরুরী। মানুষকে চিনা জানার ক্ষমতা যার যত বেশী সে তত দ্রুত সাফল্য পেতে পারেন। আমাদের চারপাশের লোকজন, এমনকি আমাদের ঘনিষ্ট মানুষের মধ্যেও কেউ কেউ রহস্যময় চরিত্রের অধিকারী। বহুদিন একসাথে থেকেও চেনা মুশকিল হয়ে পড়ে। তাদের স্বভাব বা মনের ভিতরের ভাব বুঝা যায় না। প্রকাশও করে না। অনেক সময় আমরা মানুষকে পোষাক, ভাবভঙ্গি, কথাবার্তা, কাজকর্ম, আচার-আচরণ দিয়ে বিচার করি। অনেক সময় আমরা এক্ষেত্রেও অনেকে ভুল করে থাকি কারণ অনেক মানুষ আছেন বাহিরের আচার-আচরণ মুখে কথা এক মনে আরেক। আর এ রকম মানুষেরাই বেশীরভাগ মিথ্যে কথা বলে থাকেন বেশী। আর বর্তমানে মিথ্যেবাদীদের প্রভাব এমন হয়েছে যে, তাদের কথাই অনেকে বিশ্বাস করে থাকেন কারণ তাদের মিথ্যে বলার ভঙ্গি এমন হয় যে আপনার বিশ্বাস না করার উপায় থাকে না। আবার এমন লোক মিথ্যে বলছে আপনার মনে হবে এ লোক মিথ্যে বলতেই পারে না। তাদের মিথ্যে উপস্থাপন এমন যে সত্য তাদের ধারে কাছে যেতে পারে না। আবার মিথ্যে বলতে বলতে একবার কারো কাছে প্রকাশ পেলে বা প্রমাণিত হয়েগেলে সে আর তার সত্য কথাটিও কাউকে বিশ্বাস করাতে পারে না। বর্তমানে মিথ্যের প্রভাব এতবেশী যে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে মানুষের কাজ, চিন্তা-চেতনা মনোবাসনারই প্রতিফলন ঘটায়। মনে রাখতে হবে প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। আপনি যদি সাফল্য অর্জন করেন তবে তার ভাগ অন্য কাউকে দিবেন না। আবার ব্যর্থ হলেও সে ভার অন্যে বহন করবে না। আবার কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে হুট করে মন্তব্য বা মূল্যায়ন করাও ঠিক না। কারো সম্পর্কে মূল্যায়ন করার আগে তার সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়াই ভালো। যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। আমরা অনেক সময় হঠাৎ করেই একজনের সাথে আরেক জনের তুলনা করে থাকি কিন্তু সেটা কোন ভাবেই উচিত নয়। কথায় কথায় বলে থাকি “সে ঠিক ওর মতন”। যার কারণেই বাড়ছে মানুষের মধ্যে সন্দেহ অবিশ্বাস। সন্দেহ আর অবিশ্বাস থাকলে সমাজে সামাজিকতা আর সৃজনশীলতা থাকবে না। মনে রাখতে হবে সৃজনশীল চিন্তা মানুষকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যারা সৃজনশীল চিন্তা চেতনা নিয়ে কাজ করেন সমাজেও তাদের একটা ভালো অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতার অস্তিত্ব দেখা যায়। সৃজনশীলতার প্রভাব আমাদের জীবনের গতিপথকে বিশেষভাবে নির্দেশ করে। আমাদের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত বা প্রভাবিত করে। বিবেকবান মানুষই সৃজনশীল কাজে খুব তাড়াতাড়ি জড়িত হয়। বিবেকহীন মানুষ পশুর সমান। বিচার, বুদ্ধি, বিবেক ছাড়া কেউ পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে না। সর্ব অবস্থায়ই বিবেকের প্রয়োগ ও বিবেকবোধকে জাগিয়ে তোলা দরকার। বিবেককে জাগ্রত করতে না পারলে কোন কাজে অগ্রগতি হবে না। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে মানুষ তার চাহিদা বা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিবেক বিসর্জন দিচ্ছেন। আর্থিক লোভে পড়েও অনেকে বিবেকহীন হচ্ছে। অর্থই যখন মুখ্য বিষয় হড়ে দাঁড়ায় তখন আর তার বিচার বিশ্লেষণ, বিবেক কিছুই থাকে না। তার কাছে তখন যোগ্য লোকও হয়ে যায় অযোগ্য। অর্থই যোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। বিবেক দ্বারা বিচার বিশ্লেষণ করতে না পারলে সম্পূর্ণ কর্মই বিফলে যাবে। নিজেই নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবেন। তাই আমাদের বিবেকবোধকে কাজে লাগানো উচিত এবং একে জাগ্রত করে তোলা খুবই প্রয়োজন। আমরা মানুষ চেহারাতেও অনেক মিল তবে মনের এত পার্থক্য কেন ? আমরা কেন হতে পারি না ‘মানুষের মত মানুষ’। শিশুকালে বাল্য শিক্ষায় পড়েছিলাম ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি” বা “সদা সত্য কথা বলিব” এই কথাগুলো আমরা সকল মানুষেরা এখনো সকলে বলতে পারি না? আপনি কি মনে করেন পারবেন ? পারলে অনেকে যা হারাবেন তার চেয়ে অনেক বেশী পাবেন সমাজ থেকে। আসুন না একবার চেষ্টা করে দেখি। সত্য সুন্দর সৃজনশীল সমাজ গড়ি। বেশী বলা হলে ক্ষমা করবেন। আমি সব সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র “প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে মনে রাখি। আপনি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!