২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধন-সত্যবয়ান

২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধন-সত্যবয়ান

স্টাফ রিপোর্টার ||২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক- পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়তে সারা বিশ্বের মানুষকে সচেতন করব; আগ্রহী নাগরিকদের পোলিও তহবিলে দান করতে উৎসাহী করব এবং সেই সাথে তাদের রোটারি ইন্টারন্যাশনালে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করে পোলিও-মুক্ত বিশ্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।

পোলিও বা পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ। এই রোগটি আমাদের দেশে ‘পোলিও নামেই সর্বাধিক পরিচিত। ভাইরাসের মাধ্যমে এ রোগটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পোলিওতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে শারীরিক কোন ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং তার কোন অঙ্গ অবশ কিংবা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর এক বা একাধিক অঙ্গ অবশ হয়ে যায়। সাধারণতঃ পোলিও রোগ পায়ে আক্রান্ত হয়ে থাকে। শতকরা ৯৫ ভাগেরও অধিক পোলিও ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শরীরে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান উপসর্গ দেখা যায় না। কেবলমাত্র রক্তে প্রবাহিত হয়ে আক্রান্ত হবার মাত্র কয়েকদিন আগে তা দৃশ্যমান হয়। এ ভাইরাসটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে মাংসপেশীকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে রোগীর শরীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশী অবশ হয়ে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আক্রান্ত শিশু মারাও যেতে পারে। এই ভাইরাস শুধুমাত্র মানুষের শরীরে বেঁচে থাকতে পারে। পোলিও টিকা না দেয়া হলে এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

সাধারণতঃ পোলিও রোগের ভাইরাস পায়ু পথে অথবা মুখের সাহায্যে শরীরে প্রবেশ করে থাকে। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা স্থানে এই ভাইরাস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পোলিওতে আক্রান্ত ব্যক্তির মল-মুত্র থেকে এবং পোলিও ভাইরাস আছে এমন খাবার-পানি ইত্যাদি গ্রহণ করলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই, কোন স্থানে পোলিও ব্যাপকভাবে দেখা দিলে সে সকল স্থানে যাতায়াত নিরাপদ নয়।

পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম ১ থেকে ২ দিন শিশুর সর্দি, কাশি এবং সামান্য জ্বর হয়ে ভালো হয়ে যায়। ২ থেকে ৬ দিন শিশুর মাথা ব্যাথা, শিশুর হাত কিংবা পা অবশ হয়ে যাওয়া, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, জ্বর, শিশু ঠিকমতো দাঁড়াতে না চাওয়া, দাঁড় করাতে চাইলে শিশুর কান্নাকাটি করা এবং শিশুর ঠিকমতো নড়াচড়া না করতে পারা, আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া- এসব পোলিও রোগের লক্ষণ। মূলতঃ পোলিও ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রের কোন অংশে আক্রমণ করল তার উপর রোগীর লক্ষণগুলো নির্ভর করে।
পোলিও একটি ভাইরাসবাহিত রোগ বিধায় খুব তাড়াতাড়ি একজন থেকে অন্য জনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পোলিও রোগের কোন চিকিৎসা না থাকার কারণে সময়মত পোলিও টিকা দেওয়া ছাড়া পোলিও থেকে মুক্ত থাকার কিংবা পোলিও থেকে মুক্ত হওয়ার আর কোন উপায় নেই। দেশ থেকে পোলিও নির্মূল এবং সব শিশুর সুরক্ষার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পাঁচ বছর বয়সের নিচের সকল শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হয়।

পোলিও ভাইরাস নির্মূলে রোটারি সারা বিশ্বে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। ১২২টি দেশের প্রায় ৩ বিলিয়ন শিশুকে পোলিও রোগ থেকে রক্ষা করতে রোটারি সদস্যরা ২.২ বিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলার এবং রোটারি ভলান্টিয়ারগণ অগণিত সময় দিয়ে অবদান রেখেছেন। আজ সাড়া বিশ্বে পোলিও ভাইরাস প্রায় নিমূর্লের পথে। পোলিও নির্মূলে রোটারির ভূমিকাগুলো আমরা এবারে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।  

১৮৮৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ভারমন্ট এ প্রথম পোলিও ভাইরাস চিহ্নিত হয়।

১৯৫৫ সালে ডঃ জোনাস সাল্ক এর তৈরি একটি ভ্যাকসিনকে ‘নিরাপদ এবং কার্যকরথ হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৬০ সালে মার্কিন সরকার ডঃ অ্যালবার্ট সাবিন কর্তৃক আবিস্কৃত মৌখিক পোলিও ভ্যাকসিনের লাইসেন্স দেয়।

১৯৭৯ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রথম ফিলিপাইনে ৬ মিলিয়ন শিশুকে পোলিও টিকা প্রদানের একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্ট গ্রহণ করে।

১৯৮৫ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিকভাবে সর্বপ্রথম বৃহত্তম জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রাইভেট সেক্টরে পোলিও প্লাস চালু করে। যার প্রাথমিক তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

১৯৮৮ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোবাল পোলিও নির্মূল উদ্যোগ চালু করে। রোটারি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রসমূহ এ উদ্যোগ চালু করে। ১২৫টি দেশে পোলিওর আনুমানিক ৩৫০,০০০ রোগী ছিল।

১৯৯৫ সালে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এক সপ্তাহে চীন ও ভারতে ১৬৫ মিলিয়ন শিশুকে টিকা দেয়। এ বছর রোটারি পোলিও প্লাস পার্টনার্স প্রোগ্রাম চালু করে যা পোলিও-মুক্ত দেশগুলোর রোটারি সদস্যদের পোলিও-আক্রান্ত দেশগুলোর সহকর্মীদের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের জন্য সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম করে তোলে।

২০০০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ১০% অর্থাৎ  প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন শিশু মৌখিক পোলিও টিকা গ্রহণ করে। অস্ট্রেলিয়া থেকে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটিকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

২০০৩ সালে রোটারি ফাউন্ডেশন ১২ মাসের একটি প্রচারণায় ১১৯ মিলিয়ন ডলার উত্থাপন করে। পোলিও নির্মূলে রোটারির মোট অবদান ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। আফগানিস্তান, মিশর, ভারত, নাইজার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান- এ ছয়টি দেশে পোলিও ভাইরাস থেকে যায়।

২০০৪ সালে আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম সমন্বিত পোলিও টিকাদান প্রচেষ্টা হিসেবে ২৩টি দেশে সিনক্রোনাইজড ন্যাশনাল টিকাদান দিবসগুলোতে ৮০ মিলিয়ন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

২০০৬ সালে আফগানিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান- পোলিও আক্রান্ত দেশগুলির সংখ্যা ৪ এ নেমে আসে।
২০০৯ সালে পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টাতে রোটারির সার্বিক অবদান ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। জানুয়ারিতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ৩৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চ্যালেঞ্জিং অনুদান প্রদান করে। এই ঘোষণার ফলে গ্লোবাল পোলিও নির্মূল উদ্যোগে সম্মিলিত তহবিল ৫৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।

২০১১ সালে রোটারি সেলিব্রিটি ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে পোলিও বন্ধে “দিজ ক্লোজ” নামে একটি নতুন জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং এ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামে স্বাগত জানায়। এ প্রোগ্রামের এ্যাম্বাসেডরদের মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডেসমন্ড টুটু, বেহালা শিল্পী ইতজাক পারলম্যান, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক অ্যাঞ্জেলিক কিডজো ও জিগি মার্লে এবং পরিবেশবিদ ডঃ জেন গুডাল অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। পোলিও নির্মূলের জন্য রোটারির অর্থায়ন ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

২০১২ সালে ভারতে এক বছরে কোন পোলিও কেস রেকর্ড না হওয়ায় পোলিও আক্রান্ত দেশসমূহের নামের তালিকা থেকে ভারতের নাম বাদ দেয়া হয়। বিশ্বে মাত্র ৩ টি দেশ পোলিও আক্রান্ত থেকে যায়। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ মাস আগে রোটারি তার ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে যায়।

২০১৪ সালে বন্য পোলিও ভাইরাসজনিত কোনও নতুন কেস ছাড়াই ভারত পুরো তিন বছর পার করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলটি বাংলাদেশ, ভুটান, কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও টিমোর-লেস্টে নামক ১১টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৮৮ সাল থেকে পোলিও ৯৯% এরও বেশি কমে যায়।

২০২০ সালের ২৫ আগস্ট বন্য পোলিও ভাইরাসের একটি কেসও না পাওয়ায় আফ্রিকা পোলিওমুক্ত ঘোষিত হয়। বন্য পোলিওর সর্বশেষ কেস প্রাপ্তির তিন বছর পরে আফ্রিকার নাইজেরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে পোলিও ভাইরাস মাত্র বিশ্বের ২টি দেশ- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ৩৫,০০০ এরও বেশি রোটারি ক্লাবে রোটারি সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন যারা ক্ষুধা, দারিদ্রতা, রোগ, নিরক্ষরতা এবং তাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের ও বিদেশে পরিবেশের মতো জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
রোটারি পোলিও নির্মূলের জন্য প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন ডলার বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ১৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিলের মোট প্রতিশ্রুতির ২:১ ভিত্তিতে প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। এই তহবিলগুলো বহুল প্রয়োজনীয় অপারেশনাল সহায়তা, চিকিৎসাকর্মী, পরীক্ষাগার সরঞ্জাম ও শিক্ষামূলক উপকরণ সরবরাহ করে। সরকার, কর্পোরেশন ও বেসরকারি দাতাগণ সকলেই তহবিল গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পোলিও নির্মূলের জন্য ১ মিলিয়নেরও বেশি রোটারি সদস্য তাদের সময় ও অর্থ অনুদান দিয়েছেন এবং প্রতি বছর রোটারি সদস্যগণ পোলিও আক্রান্ত দেশে শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে এক সাথে কাজ করেন। রোটারি সদস্যরা নানা ধরনের সমস্যা, ভৌগলিক কারণ বা দারিদ্রের দ্বারা বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোতে মানুষের জন্য তথ্য উপকরণ প্রস্তুত ও বিতরণ করতে ইউনিসেফ ও অন্যান্য পার্টনারদের সাথে কাজ করে থাকেন। তারা সহকর্মী স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ, ভ্যাকসিন পরিবহনে সহায়তা এবং অন্যান্য যৌক্তিক সহায়তা প্রদানের জন্যও একত্রিত হয়ে থাকেন।

রোটারি ও এর পার্টনারদের প্রচেষ্টার কারণে প্রায় ১৯.৪ মিলিয়ন মানুষ যারা পোলিওতে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারতো তারা আজ নির্বিঘ্নে হাঁটছেন এবং দেড় মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বেঁচে আছেন যারা পোলিও ভাইরাসে মারা যেতে পারতো। পোলিও নির্মূলে রোটারি যে অবকাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করেছে সেগুলো কোভিড-১৯ সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থায়ী প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম  হয়েছে।

রোটারি ও এর পার্টনারগণ পোলিওর বিরুদ্ধে অসাধারণ অগ্রগতি করেছে। যদিও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনিরাপত্তা, অধিকসংখ্যক মোবাইল জনসংখ্যা, দুর্গম অঞ্চল এবং কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন গ্রহণে অস্বীকার, কুসংস্কার ও ভুল তথ্যসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে এখনো পোলিও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি। তবে পর্যাপ্ত সহযোগিতা, জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ও নতুনত্বের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে এ বিশ্বকে পোলিওকে শতভাগ নির্মূল করতে পারবে বলে রোটারি আশাবাদী।

বিশ্ব পোলিও দিবসে রোটারি ক্লাব অব শেরপুর প্রতিবছর মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ঊহফ চড়ষরড় লোগো সম্বলিত টি-শার্ট, গেঞ্জি, ক্যাপ, মাস্ক পড়ে ব্যানার ফেস্টুনসহ বর্ণ্যাঢ্য রেলির আয়োজন করে থাকে এবং সেই সাথে পোলিও নির্মূলে রোটারির ভূমিকা সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে অবহিত করে। এ নিয়ে ক্লাবটি সেমিনার, স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে পোলিও নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে। ২০২০-২১ রোটারি বর্ষে রোটারি ক্লাব অব শেরপুর রোটারির পোলিও ফান্ডে ১৭০০ ইউএস ডলার দান করেছে চুক্তি অনুযায়ী (২:১) বিলগেটস- মেলিন্ডা ফাউন্ডেশন দিয়েছে ৩৪০০ ডলার যার অর্থ হলো পোলিও ফান্ডে রোটারি ক্লাব অব শেরপুর এর নামে জমা হয়েছে ৫১০০ ইউএস ডলার অর্থাৎ ৪লক্ষ ৩৩হাজার ৫শত টাকা। এ বছরও ক্লাবটি রোটারির পোলিও ফান্ডে ২ হাজার ডলার দান করার অঙ্গীকার করেছে।

২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক- পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়তে সারা বিশ্বের মানুষকে সচেতন করব; আগ্রহী নাগরিকদের পোলিও তহবিলে দান করতে উৎসাহী করব এবং সেই সাথে তাদের রোটারি ইন্টারন্যাশনালে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করে পোলিও-মুক্ত বিশ্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.