শেরপুরের গারো পাহাড়ে আলোর মিছিল-সত্যবয়ান

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আলোর মিছিল-সত্যবয়ান

নালিতাবাড়ী শেরপুর প্রতিনিধি|| শেরপুরের নালিতাবাড়ি বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীর গারো পাহাড়ে প্রায় ২০ হাজার ক্যাথলিক খ্রীষ্টভক্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর মিছিল করেছে।
২৮ ও ২৯ অক্টোবর বৃহস্প্রতি ও শুক্রবার দুই দিন ব্যাপী খ্রীষ্টানদের তীর্থোৎসব অনুষ্ঠানের প্রথম দিন
বিকেল ৪টায় মহা খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি। এরপর পাপ স্বীকার ও রাত ৮টায় ভক্তরা মোমবাতি নিয়ে পাহাড়ে আলোর মিছিল বা শোভাযাত্রায় বের হন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ আলোক মিছিলে দুই বছর পর আলোকিত হয় গারো পাহাড়। করোনার কারণে গত দুই বছর এই উৎসব হয়েছে সীমিত পরিসরে।
‘ভ্রাতৃত্ব সমাজ গঠনে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এই মূলসুরের ওপর ভিত্তি করে এবারের উৎসবে মা মারিয়ার কাছে বিশ্বকে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মহা খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের কার্ডিনাল পেট্রিক ডি রোজারিও সিএসসি ৷ তাকে সহযোগিতা করেন ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি সিএসসি। তীর্থের প্রথম দিন খ্রীষ্টযাগ, পাপ স্বীকার, আলোর শোভাযাত্রা ও নীশি জাগরণ এবং শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহা খ্রিষ্টযাগের মাধ্যমে এ তীর্থ উৎসব শেষ হয়েছে।
নেত্রকোনার বিরিশিরি থেকে যাওয়া ক্যাথলিকভক্ত আঁখি মারাক বলেন, ‘পাপ মোচনসহ নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মা মারিয়ার কাছে ছুটে এসেছি। আমার সন্তানের অসুখের জন্য মানত ছিল, তাই এখানে এসেছি। আমার মানত ভালো হয়েছে।’
আরেক ভক্ত লিউনি নকরেক বলেন, ‘আমরা যেন ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারি, আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারি, এ জন্য মা মারিয়ার সাহায্যের জন্য এসেছি।’
আদিবাসী নেত্রী কেয়া নকরেক বলেন, ‘আমাদের বারোমারী মিশনে সারা দেশ থেকে ক্যাথলিকসহ সব খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা এখানে আসেন, মা মারিয়ার কাছে সাহায্য চাইতে, পরিবারের শান্তির জন্য। আর এ বছর আমরা মা মারিয়ার কাছে প্রার্থনা করছি, সারা বিশ্ব যেন করোনা থেকে মুক্ত হতে পারে।’
বারোমারী লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লিতে ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয় এই তীর্থযাত্রা উৎসব। এর পর থেকে প্রতিবছরই অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তীর্থযাত্রার সেখানে মেলাও বসে। এবারও মেলা বসেছে, তবে কেনাকাটা অন্য বছরের চেয়ে কম হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, ‘ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এই উৎসব সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা সব সময় এর খোঁজখবর রেখেছি। আমাদের সবার সহযোগিতায় এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!