রাস্তা তো নয় যেন লম্বা একটা নদী-সত্যবয়ান

রাস্তা তো নয় যেন লম্বা একটা নদী-সত্যবয়ান

আবু তোরাব,ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে পোড়াবাড়ী-কান্দানিয়া সড়কের দুই পাশের ফিসারির পাড় সড়ককে বানিয়ে দিয়েছে নদীর আকৃতি।পোড়াবাড়ী বাজার হতে এই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটারে সড়ক অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ভারী মাছসহ অন্যান্য পন্যবাহী গাড়ী চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।
ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, ভালুকা, টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর, ঘাটাইল এই ৩-৪টি উপজেলার লোকজন এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে ।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, এই সড়কের বেশির ভাগ অংশেই দু’পাশে ফিসারি রয়েছে। এই ফিসারি গুলোর মালিক তাদের ফিসারি খননের সময় সড়কের পাড়কেই তাদের ফিসারির পাড় হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে সড়কে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকে সড়কটি।সড়কে পানি থাকায় পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ সড়কের পাশে পাড় ছাড়াই ফিসারি নির্মাণ ঠেকাতে ও সড়কের উচ্চতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা সড়কের এমন বেহাল দশায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ফিসারির পাড় সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থানান্তর করে সড়কটি আরও উচু করে মেরামতের দাবী জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, পিচঢালা এই সড়কে গত এক বছর আগে মেরামতের কাজ করা হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় এলাকাবাসী বাঁধা দিলে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন গিয়ে কাজ আটকে দেয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার কাজ শুরু হয়েছিলো।

স্থানীয় এলাকাবাসী মানিক জানায়, কয়েকদিন আগেই এই সড়কে দুই পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের পানিতে পড়েছিলো। আরও অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন খানাখন্দে আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। এতে করে অনেক সময় বন্ধ থাকছে যানবাহন চলাচল। আমাদের এলাকার কিছু ফিসারির মালিক তাদের ফিসারির পাড় নির্মাণ করে সড়কের দু’পাশে উঁচু করে রেখেছে। এতে করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে বছরের অনেক সময় রাস্তায় পানি জমে থাকছে। আমরা আমাদের চলাচলের পথকে সকল বাঁধা থেকে মুক্ত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানাচ্ছি।

বয়োজ্যেষ্ঠ ছাবেদ আলী ফকির জানান, অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাটু পানি জমে। গাড়ির ড্রাইভাররা যাত্রী নিয়ে এক্সিডেন্ট করে। তারা ফিসারির মালিকদের গালাগালি করে। তাই ফিসারি মালিকরা সেলু মেশিন দিয়ে রাস্তা থেকে পানি সড়িয়ে শুকিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিসারির মালিক সাথে এবিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একা পানি নিষ্কাশনের জায়গা রেখে পাড় রাখলে লাভ কি। আশেপাশে কোন পুকুরেরই পাড় নেই। তবে এজন্য আমাদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পুকুর ও রাস্তা পানিতে একাকার হয়ে যায়। পুকুরে মাছ আটকে রাখতে রাস্তার একপাশে জালের বেড়া দিয়েছি। আর রাস্তা ভেঙে পুকুরে নামার বিষয়ে তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেবো।

উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ফিসারির কারনে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ত্রিশাল উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে যদি ফিসারি করে মাছ চাষ করা হয় এবং তাতে রাস্তায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তবে খোঁজ নিয়ে ফিসারি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.