শেরপুরে নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বিধবা এক নারীর সাংবাদিক সম্মেলন-সত্যবয়ান

শেরপুরে নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বিধবা এক নারীর সাংবাদিক সম্মেলন-সত্যবয়ান

নকলা শেরপুর প্রতিনিধি||শেরপুরের নকলা উপজেলায় নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রতিবেশি নূর মাহমুদ গংদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন পুত্র সন্তান হীন তারাভানু নামে বিধবা অসহায় এক নারী। অসহায় বিধবা তারাভানু উপজেলার কলাপাড়া মোজাকান্দা এলাকার মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী। তারাভানুর স্বামী ও কোন পুত্রসন্তান না থাকয় শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তারাভানু একাই এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সম্মেলনে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদিক সম্মেলনে তারাভানু সাংবাদিকদের জানান, সে এলাকার একজন নিরিহ শান্ত প্রকৃতির বিধবা ও পুত্র সন্তান হীন নারী। তাকে তার মা জীবীত থাকাবস্থায় ৫শতাংশ জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিয়ে যান। তার মা মারা যাওয়ার পরে মায়ের ওয়ারশি হিসেবে প্রাপ্ত আরো ১২ শতাংশ জমিসহ মোট ১৭ শতাংশ জমির মালিক হন তারাভানু। এ জমির লোভে পড়ে প্রতিবেশি নূর মাহমুদ গংরা তাকে মারপিট করাসহ বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে আসছে। তারাভানুর দুটি মেয়ে সন্তান থাকলেও একজনের বিয়ে হয়েছে। তার আয়ের কোন উৎস না থাকায় ছোট মেয়েটিকে নিয়ে সে দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরে দিনাতিপাত করেন। মাঝে মধ্যে নিজের বাড়ি ঘর দেখতে এলাকাতে আসেন। কিন্তু গত ২ বছর ধরে সে বাড়িতে আসলে তাকে নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে আসছে প্রতিবেশি নূর মাহমুদ গংরা। তারাভানু নিজের বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। একবার পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, এটা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং ভাঙ্গা হাতটি সাংবাদিকদের দেখান। তিনি জানান, তার হাত ভেঙ্গে দেওয়া পরথেকে তিনি বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরে দিনাতিপাত করছেন। গত মাসে (অক্টোবর) সে এলাকায় এসে তার নিজের বাড়িতে প্রবেশ করলে ১৯ অক্টোবর সকালে প্রতিপক্ষরা তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বেড় করেদেয়। এবিষয়ে নকলা থানায় একটি জিডিও করেছেন বলে জানান পুত্র সন্তান হীন ও বিধবা অসহায় তারাভানু। তিনি বলেন, যাদের বসত বাড়ি নেই, তাদের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘর দিচ্ছেন। আর আমার নিজের জমিসহ ঘর থাকলেও ওই ঘরে বসবাস করতে পারছিনা। জনদরদি শেখ হাসিনার শাসনামলে কেউ প্রতিবেশির অত্যাচারে নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারলে তার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, আপনাদের সঠিক লেখনির মাধ্যমে আমি সুষ্ঠু বিচার পেতে পারি। সাংবাদিকদের লেখা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতনদের নজরে আসবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। তাই উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি যেন নিজ নিজ সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করে সুষ্ঠ বিচার পেতে এবং নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টিতে তাকে মানবিক সহায়তা করা হয়। এসব বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। হামলা-মামলা ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন কৌশলে নিজের বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অপকৌশলীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার কামনা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!