শেরপুর পৌর শহরের ফুটপাত দখল উচ্ছেদ অভিযান স্বাগতম|| আবার যেন পূর্বের অবস্থায় ফিরে না যায়-সত্যবয়ান

শেরপুর পৌর শহরের ফুটপাত দখল উচ্ছেদ অভিযান স্বাগতম|| আবার যেন পূর্বের অবস্থায় ফিরে না যায়-সত্যবয়ান

মানিক দত্তঃ শেরপুর পৌরসভা কর্তৃক শুরু হয়েছে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান। দু-চার জন অতিমানবিক! ছাড়া সবাই এ অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছেন। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীও ছিল। আমিও বেশ লেখা-লেখিও করেছি বেশ কয়েক বার, যদিও দু-চার বছর পর পর উচ্ছেদ অভিযান করা হয়ে থাকে কিন্ত দেখা যায় কিছুদিন পরেই আবার আগের মতই একটু একটু করে দখল করতে থাকে এবং পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। সবাই আশা ও দাবী করেন এবারের অভিযানের পর যেন নজরদারী রাখা হয়। নজরদারীর অভাবেই এমন অবস্থা হয়। আমার লেখায় আমি লিখেছিলাম যে, মার্কেটের দোকান মালিকগণই যার যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে ভাড়ার বিনিময়ে হকার বসতে দেন। সেটা দৈনিক বা মাসিক ভাড়ায়। আবার যার যার প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ ভরাট করে উঁচু পাঁকা করে নেয়। আজ ৭ জানুয়ারী সোমবার থানার মোড় হতে নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে দখলমুক্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। সেটাই হবে বলে আমরা আশা করছি। মাঝপথে যেন বন্ধ না হয়। এই সকল অভিযান পরিচালনার সময় দেখা যায় বিভিন্ন মহল হতে তদবির শুরু হয়। তদবিরের জন্য বা ভোট নষ্ট হবে ভেবে যেন অভিযান বন্ধ না হয় সেটাই আমরা আশা করি। আবার অভিযান যেন পক্ষপাতদুষ্ট না হয়। আচরনটা যেন সবার জন্য একই হয়। শহরের বিভিন্ন মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেল রেখে ফুটপাত দখল করে রাখে, দেখা যায় অনেকগুলো মোটরসাইকেল ফুটপাতে রেখে সকালে ব্যাংক, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান অনেকেই। তাদের কাজ শেষ হয় সন্ধ্যায় বা রাতে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে ফুটপাত দখল করে রাখা হয় মটরসাইকেল রেখে। এ ছাড়াও সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত কলেজ মোড় হতে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে ভ্যানে করে বসে কাঁচা বাজার, বাদম,চানাচু,ঝালমুড়ি,ফল, পিঠা, পপকনসহ নানান ধরনের দোকান, এমনকি ভ্যানে করে এখন কাপড়ও বিক্রি করে। সন্ধ্যার পর বসে মাছের বাজার, দেখা যায় একজন দোকান ভাড়া নিয়ে মাছের দোকান দিয়েছে যার দরুন সেই দোকানের আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা মাছের গন্ধে অতিষ্ঠ। মাছের দোকানের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে মেয়র মহোদয় আশ্বাস দিয়েছেন।উচ্ছেদ অভিযানের পর ভ্রাম্যমান অর্থাৎ ভ্যানের দোকান বেড়ে যাবে বলে অনেকে ধারনা করছেন।সেদিকও নজরদারীর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন অনেকে। দিনের বেলায় শহরের ভিতর দিয়ে তেমন কোন যাত্রীবাহী বাস চলাচল না করলেও সন্ধ্যার পর হতে রাত ১ টা পর্যন্ত হেড পোষ্ট অফিস হতে নিউ মার্কেটের মোড় হয়ে বুলবুল সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন বাস কাউন্টারের বাসগুলো ফুটপাতসহ রাস্তার কিছু অংশ দখল করে রেখে যাত্রী উঠানামা করায় এবং বাসগুলো ছেড়ে যাওয়া আগে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখে এবং বিভিন্ন উপজেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলার কয়েকটি উপজেলার যাত্রীবাহী বাস শহরের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করায় জ্যামের কারনে বিপাকে পড়ে পথচারী। ঘোষপট্রি মোড়ের পুকুর পাড়, নিউ মার্কেটের নতুন ভবনের সামনে হয়েছে অটোরিক্সা এবং ব্যাটারী চালিত অটোর স্ট্যান্ড অপরদিকে থানার মোড় গণগন্থাগারের সামনে হতে চলাচল করছে শেরপুর- জামালপুর রোডের সিএনজিগুলো। সেখানদিয়ে চলাচল দুস্কর। থানার মোড় তাজমহলের সামনে তো অটোরিক্সার দূর্বিসহ যন্ত্রণা। তারা ট্রাফিক পুলিশের কথাও শুনতে চায় না। যেহেতু এ সকল স্ট্যান্ড হতে পৌর টোল তোলা হয় তাই স্ট্যান্ডগুলো সড়ানোর ব্যবস্থা পৌর কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবনের মালামালগুলো রাস্তায় না রাখার জন্য বেশ কয়েকদিন পৌর কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা মূলক প্রচারনা দিয়েছেন তারপরও রাস্তায় মালামাল রেখে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করা হচ্ছে এবং পুরাতন ভবনের ডাস্টগুলো রাস্তায় ফেলেরাখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। এবং যে সকল ভবনের ছাদের পানি পাইপ লাগিয়ে রাস্তায় ফেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.