শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার এখনই সময়||সত্যবয়ান

শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার এখনই সময়||সত্যবয়ান

মানিক দত্ত: শেরপুর জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার এখনই সময় ধরতে গেলে শেরপুর জেলায় বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গনে চলছে স্বর্ণযুগ। এই স্বর্ণযুগকে কাজে লাগাতে পারলেই স্বর্ণযুগের সফলতা আসবে। স্বর্ণযুগ বলছি এ কারণে বর্তমানে শেরপুর জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণপুরুষ। জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি মহোদয় একজন সাবেক ফুটবলার এবং ক্রীড়া সংগঠক। তার আয়োজনে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় শেরপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী ঘোষের মাঠে বহুদিন যাবত চলে আসছে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন। তার অর্থায়ানে এ বছর থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। যে প্রতিযোগিতা শুধু শেরপুর নয় সারা দেশে ইতিহাস সৃষ্টি করছে। শেরপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার দর্শক উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন। তিনি শেরপুর জেলার কৃতি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য প্রদান করে থাকেন আর্থিক উপহার। শেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবীর রুমানও একজন ক্রীড়ামোদী। তার আয়োজনেও হয়ে থাকে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন বিভিন্ন ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানকে। শেরপুর জেলার যে সকল জেলা প্রশাসক এ পর্যন্ত শেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সকলেই খেলাধূলার প্রতি বিশেষ নজর রাখলেও বর্তমানে যিনি শেরপুর জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি হলেন মোঃ মোমিনুর রশীদ মহোদয়। তিনি এবং উনার সহধর্মিনী শেরপুর জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ভাবী দুজনই খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠক। প্রিয়া ভাবীর কথা পরে আসছি, জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ মহোদয়ের কথায় আসি। তিনি শেরপুরে যোগদান করেছেন মাত্র ৮/৯ মাস হলো। এসেই চালু করলেন ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন খেলা এবং প্রশিক্ষণ। তিনি ঘোষণা দিলেন অর্থ কোন বিষয় নয়, আয়োজন করতে হবে খেলা ধূলা, করাতে হবে প্রশিক্ষণ। একে একে অনেক খেলারই আয়োজন হলো। তিনি তার নিজস্ব তলবিল হতে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ৩ লক্ষ টাকা এবং মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে দিলেন ২ লক্ষ টাকা। যে সকল খেলোয়াড় স্টেডিয়ামে খেলার জন্য আসে তাদের মধ্যে যারা গরীব অটো বা রিক্সা ভাড়া দিতে পারে না তাদের মধ্যে ১৫ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়েকে দিলেন বাই সাইকেল। সারা বৎসর ব্যাপী বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ দিচ্ছেন প্রশিক্ষক, সেই প্রশিক্ষকদের সন্মানীর ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি’র আদলে শেরপুরে করবেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে ২৫/২৬ বৎসর যাবত জড়িত আছি, এত বছরে কোন জেলা প্রশাসককে দেখি নাই উনার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দিতে। জেলা প্রশাসক মহোদয় এখনো ব্যাডমিন্টন,লন টেনিস নিয়মিত খেলেন । সকল সময় সকল প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থেকে আমাদেরকে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করেন। এ কয় মাসেই ক্রীড়াঙ্গনের সকলের মন জয় করে নিয়েছেন। ক্রীড়া বান্ধব জেলা প্রশাসক হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের খোঁজ খবর রাখেন সকল সময়। পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী মহোদয় একজন ক্রীড়াপ্রেমী। সকল সময় অনুপ্রেরণা দেন আমাদের। শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন একজন ক্রীড়া সংগঠক এবং আয়োজক। উনার ক্লাব কাকলি স্পোর্টিং ক্লাবই শেরপুরে চালু করেন পেশাদারিত্ব খেলোয়াড়। তিনি বেশ কয়েকবার আয়োজন করেছেন মেয়র ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা। আয়োজন করেছেন বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তিনি শেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ- সভাপতিও। শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম মহোদয় আয়োজন করে থাকেন ফুটবল প্রতিযোগিতার। নকলা পৌর মেয়র মেহোদয়, নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহোদয় গণও আয়োজন করেছেন মেয়র ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা। এখন আসি ডিসি ভাবী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ভাবীর কথায়। তিনি এসেই চাঙ্গা করেছেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে। অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। মেয়েদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছেন বিভিন্ন খেলার। তিনি একজন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় এবং জাতীয় পর্যায়ের দাবাড়ু। জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছেন। শেরপুর জেলায় এমন ক্রীড়া মোদী ক্রীড়া সংগঠকগণের উপস্থিতিতে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার এখনই সময়। আমরা যাহারা ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িত আছি এবং ক্রীড়া সংস্থার সাথে জড়িত আমাদের এ সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। তবেই শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গন স্বর্ণযুগে পা রাখবে বলে আমি মনে করি। সাবেক, বর্তমান খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়া মোদী আসুন সবাই মিলে এই সময়টাকে কাজে লাগাই, সৃষ্টি করি জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়, সৃষ্টি করি জ্যোতি, জহির, আতিক, কিরণ, জিহান, রেজুয়ান।
অনেক ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন কারণে ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে সরে আছেন, তাদেরকে আমি আহ্বান জানাই আসুন সবাই মিলে ক্রীড়াঙ্গনের মাধ্যমে শেরপুরকে পরিচিত করি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। শেরপুর জেলার বৃত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাবো, আপনারাও ভূমিকা রাখুন। সহযোগিতা করুন শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাই আপনার সন্তানকে লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলা-ধুলায় উৎসাহিত করুন। যে টুকু সময় খেলবে সে সময় টুকু বিফলে যাবে না। মোবাইল ফোন গেমস্ থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখতে মাঠে পাঠান। উপকার হবে আপনার,আপনার সন্তানের, সমাজের এবং দেশের। আসুন সবাই মিলে শেরপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.