ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ সন্ত্রাস, অবৈধ কালো টাকা ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ||সত্যবয়ান

ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ সন্ত্রাস, অবৈধ কালো টাকা ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ||সত্যবয়ান

স্টাফ রিপোর্টার|| শেরপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর রুমানের (মোটরসাইকেল প্রতিক) বিরুদ্ধে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ সন্ত্রাস, অবৈধ কালো টাকা ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল (আনারস প্রতিক)। ১৫ অক্টোবর শনিবার দুপুরে শহরের চকবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চন্দন কুমার পাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় হুমায়ুন কবীর রুমান দলীয় পদ হারানোর পর থেকেই তার মোটরসাইকেল প্রতিকের পক্ষে ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করতে ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ কালো টাকার প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে আসছেন। জেলার বাইরে থেকে অপরিচিত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। সেইসাথে আনারস প্রতিকের প্রার্থীর ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি করছেন আতঙ্ক। কেবল তাই নয়, নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তার নির্বাচনী প্রচারণায় ও সভা-সমাবেশে ‘সব মুসলমান ভাই ভাই, মোটরসাইকেলে ভোট চাই। হিন্দু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তার কাছ থেকে মসজিদ ও কবরস্থানের অনুদান নেওয়া বেদাত হবে। তিনি নির্বাচিত হলে জানাজায় শরিক হতে পারবেন না।

তাই কোন মুসলমান ভোটার হিন্দু, বিধর্মী প্রার্থী চন্দন কুমার পালকে ভোট দিতে পারবেন না’- বলেও বক্তব্যে চরম সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়াচ্ছেন। এছাড়া গত ১৩ অক্টোবর হুমায়ুন কবীর রুমান ও তার লোকজন সীমান্তের গজনী ও লাউচাপড়া পর্যটন কেন্দ্রসহ তার নিজস্ব কিছু গোপন আস্তানায় ভোটারদের ডেকে নিয়ে ভোট প্রদানের জন্য কোটি কোটি কালো টাকা বিতরণ করেছেন এবং এখনও যা চলমান রয়েছে।

তিনি হুমায়ুন কবীর রুমানের সাংবাদিক সম্মেলনে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রোগ্রামে শেরপুরে এসেছিলেন। প্রোগ্রাম শেষ করে যথারীতি তিনি তার সরকারি ন্যাম ভবনে চলে গেছেন। তিনি কোনভাবেই নির্বাচনকে ও ভোটারদের প্রভাবিত করেননি। তিনি আরও বলেন, নকলায় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর নামাজে জানাজায় হুইপ আতিকসহ তিনি ও বিদ্রোহী প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। অথচ বিদ্রোহী প্রার্থীর ছবির অংশ কেটে আচরণবিধি লঙ্ঘনের তথাকথিত অভিযোগ তুলেছেন- যা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল বলেন, আইন পেশা ছাড়া তার আয়ের কোন উৎস নেই। নেই কোন কালো টাকা। কিন্তু তারপরও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করতে জেলা-উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগসহ তৃণমূলের দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে আনারস প্রতিকের বিজয়ের পথ সুগম করেছেন, ঠিক তখন সেই বিজয় নস্যাৎ করার জন্য দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দফায় রুমান নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক দফায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আশ^স্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদস্য সচিব ফখরুল মজিদ খোকন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট মজদুল হক মিনু, খন্দকার নজরুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট একেএম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী ও মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুব্রত কুমার দে ভানু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেলা আক্তার বলেন, আনারস প্রতিকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া কোন প্রার্থীকেই অবকাশ কেন্দ্র ব্যবহারের অনুমতি না দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনরকম বিশৃঙ্খলাই বরদাশত করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.