শ্রীবরদীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ১৫ বছরের কিশোরী||সত্যবয়ান

শ্রীবরদীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ১৫ বছরের কিশোরী||সত্যবয়ান

শ্রীবরদী সংবাদদাতা|| শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বিপিএম এর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল শ্রীবরদী উপজেলার পৌর সদরের সেকদি গ্রামের ১৫ বছরের এক কিশোরী কন্যা।
জানা যায়,২৩ অক্টোবর রাতে টক টু-এসপি হটলাইন নম্বরে ফোন আসে শ্রীবরদী উপজেলার সাতানী মথুরাথী গ্রামের মৃত গোলাপ হোসেনের ছেলে শফিউল্লাহর বাড়িতে এক নাবালিকা কন্যার বিয়ে হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিক নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি আফরোজা নাজনীনকে অবগত করেন বিষয়টি।
পরে শ্রীবরদী থানায় জরুরী কাজে নিয়োজিত এসআই রেজাউল এএসআই কামরুল রাতে আড়াইটার দিকে ছুটে যায় শফিউল্লাহ বাড়িতে। ঠিক সে সময় বিয়ের আয়োজন চলছিল সেকদি গ্রামের আব্দুল খালেকের নাবালিকা ১৫ বছরের কন্যা খাদিজার সাথে একই উপজেলার
মাদারপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে নিরব মিয়ার সাথে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
ঠিক সেই মুহুর্তে বিয়ে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি দেখে কৌশলে পালিয়ে যায় বর ও তার স্বজনরা।
মুহূর্তেই পন্ড হয়ে যায় বাল্যবিয়ে। এসময় পুলিশ সদস্যরা বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে মেয়ের পরিবারকে অবগত করলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহজাহান কবির ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর শান্তি বেগমের উপস্থিতিতে ভাঙ্গা যায় বাল্যবিয়ে।
এ প্রসঙ্গে শ্রীবরদী থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শ্রীবরদী থানা পুলিশ সর্বদাই তংপর রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ছুটে যাচ্ছি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে। তবে পুলিশের একার পক্ষে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এতে দরকার সামাজিক গণসচেতনতা। আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকে শপথ নিতে হবে। বাল্যবিয়ে কে না বলুন।
উল্লেখ্য, পুলিশ সুপার জনাব মো. কামরুজ্জামান বিপিএম প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে একটি টিমের মাধ্যমে পরিচালিত ‘টক-টু-এসপি’ নামে ০১৩২০১০৬২১৪ এবং ০১৩২০১০৬২১৫ দুটি হটলাইন নম্বর ২৪ ঘণ্টার জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শেরপুরে চালু করা হয়েছে। এই হটলাইনের মাধ্যমে শেরপুর জেলাবাসী প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময়ে পুলিশি সেবা পেতে যোগাযোগ করতে পারছেন ও ‘টক-টু-এসপি’ হটলাইন সেবার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশি পাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.